দ্বীন-দুনিয়া ডেস্ক: ইসলাম একটি সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তব অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে আল্লাহ্তায়ালা অনেক বিধানে সহজতা দান করেছেন। এর অন্যতম উদাহরণ হল সফর অবস্থায় নামাযের বিধান (সালাতুল কাসর)। অনেক মুসলমানই ভ্রমণে বের হলে নামায আদায়ের নিয়ম সম্পর্কে বিভ্রান্ত হন।

তাই এই বিষয়ে মৌলিক মাসআলা জানা জরুরি।
কেউ যদি প্রায় ৯২ কিলোমিটার বা তার বেশি দূরত্বে সফরের উদ্দেশ্যে নিজ এলাকার সীমানা অতিক্রম করেন, তাহলে তিনি মুসাফির হিসেবে গণ্য হবেন। এই অবস্থায় চার রাকায়াত ফরয নামায (যোহর, আসর ও এশা) দুই রাকায়াত করে আদায় করা ওয়াজিব। তবে ফজরের দুই রাকায়াত এবং মাগরিবের তিন রাকায়াত অপরিবর্তিত থাকবে।

যদি কোনও ব্যক্তি সফরের গন্তব্যস্থলে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করেন, তাহলে তিনি মুসাফিরই থাকবেন এবং কাসর নামায পড়বেন। কিন্তু শুরুতেই যদি ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করেন, তাহলে তিনি মুকিম হিসেবে পূর্ণ নামায আদায় করবেন।
অনেকে মনে করেন, সফরে থাকলে নামায পড়ার প্রয়োজন নেই বা পরে কাযা করলেই হবে। এটি ভুল ধারণা।
সফর নামায মাফ করে না, বরং আল্লাহ্তায়ালা বান্দাহর সুবিধার জন্য নামাযকে সংক্ষিপ্ত করার অনুমতি দিয়েছেন।
সফরের সময় জামাতে নামায আদায় করা সম্ভব হলে তা উত্তম। আর যদি গাড়ি, ট্রেন বা বিমানে নামাযের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাসাধ্য নামায আদায় করতে হবে।
একজন মুসলমানের উচিত সফরে বের হওয়ার আগে নামাযের বিধান জেনে নেওয়া এবং সময়মতো সালাত আদায়ের প্রতি যত্নবান হওয়া। কারণ নামায কোনও অবস্থাতেই অবহেলার বিষয় নয়। আল্লাহ্তায়ালা সহজতা পছন্দ করেন এবং তাঁর দেওয়া বিধান অনুযায়ী ইবাদাত করাই প্রকৃত আনুগত্য।
তথ্যসূত্র: আল-কুরআন (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০১), সহিহ্ মুসলিম, সহিহ্ বুখারী, আল-হিদায়াহ ও ফাতাওয়া আলমগিরি)