পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কেবল সমাজে গ্রহণযোগ্যতা এবং ‘দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা’র মতো অস্পষ্ট অভিযোগে কি কাউকে দীর্ঘ সময় জেলে বন্দি রাখা যায়? এই প্রশ্নই তুলল জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্ট। জম্মু ও কাশ্মীর জনসুরক্ষা আইনের (পিএসএ) অধীনে ১০ মাস ধরে বন্দি থাকা শোপিয়ানের বাসিন্দা মুশতাক আহমেদ শাহের আটকাদেশ খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পেশ করা যুক্তিকে ‘অস্পষ্ট ও নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণহীন’ আখ্যা দিয়ে মুশতাককে অবিলম্বে কারাগার থেকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


 
প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে শোপিয়ান জেলার শাহলাটু গ্রামের বাসিন্দা মুশতাক আহমেদ শাহকে পিএসএ আইনের অধীনে আটক করে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের একটি কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এদিন মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি রজনীশ অসওয়াল জানান, মুশতাকের বিরুদ্ধে পুলিশ ও জেলা শাসকের পেশ করা অস্পষ্ট ভিত্তি সংবিধানের ২২(৫) অনুচ্ছেদে দেওয়া সাংবিধানিক সুরক্ষাকবচকে সরাসরি লঙ্ঘন করেছে। আদালত রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ করেন, "আটকাদেশের ভিত্তিগত অস্পষ্টতাই প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে অবৈধ করে তোলে। কেবল এই একটি উপাদানের ভিত্তিতেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জারি করা নির্দেশ বাতিলযোগ্য।
"
 
বিচারপতি আরও বলেন, পুলিশের নথিতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম বা উগ্রপন্থী সংগঠনের উল্লেখ নেই, যাদের সঙ্গে মুশতাক যোগাযোগ রেখেছিলেন বা প্রভাব ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই কেবল আনুমানিক আশঙ্কার ওপর ভিত্তি করে কাউকে বন্দি রাখা আইনি প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
 
জেলা শাসকের ডসিয়ারে শোপিয়ানের সিনিয়র পুলিশ সুপারের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, মুশতাক এলাকায় "দেশবিরোধী মানসিকতার প্রকাশ ঘটিয়েছেন" এবং সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁকে আটকে রাখা সম্ভব নয়। সবচেয়ে তাজ্জব বিষয় হলো, ডসিয়ারে উল্লেখ করা হয়— মুশতাকের এলাকায়, বিশেষ করে যুবকদের মধ্যে, ব্যাপক "সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা" রয়েছে। ফলে জঙ্গিরা তাঁকে আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে বা প্ররোচনা দিতে ব্যবহার করতে পারে। এমনকি ঘরোয়া আলোচনা বা ব্যক্তিগত বৈঠকে তিনি তরুণদের উস্কানি দিতে পারেন— এই আশঙ্কার কথা জানিয়েই তাঁর ওপর কঠোর জনসুরক্ষা আইন প্রয়োগ করা হয়েছিল।