পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গঙ্গার ভয়াবহ ভাঙন ও বন্যায় বিধ্বস্ত মালদহের পাশে দাঁড়াতে বড়সড় আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর ঠিক মুখেই বৃহস্পতিবার আকাশপথে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে দুর্গতদের সহায়তায় মোট ২৪২ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি। বিশেষ করে ভুতনি, মানিকচক, রতুয়া এবং ইংরেজবাজারের ভয়াবহ পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে দুর্গত মানুষদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী অঙ্গীকার করেন, এই দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা থেকে তাঁদের স্থায়ী মুক্তির বন্দোবস্ত করা হবে।
মালদহের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে রতুয়া থেকে হেলিকপ্টারে করে প্রায় ২০ মিনিট আকাশপথে প্লাবিত ও ভাঙনকবলিত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে মানিকচকে পৌঁছে জেলাশাসক ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক সেরে পুনর্বাসনের বিশদ রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, জেলায় বন্যায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ২৪ হাজার ৫৯৫টি বাড়ি পুনর্নির্মাণের জন্য পরিবার পিছু ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। পাশাপাশি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ২২ হাজার ৩৪০টি পরিবারের জন্য ৯০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। এছাড়া পুজোর উপহার হিসেবে ৫ হাজার পরিবারের হাতে নতুন পোশাক, মশারি ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হবে।
দুর্গত মানুষদের জন্য ২১টি সরকারি ত্রাণশিবির থেকে প্রতি পাঁচ দিন অন্তর প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বণ্টন এবং ২৫টি কমিউনিটি কিচেনের মাধ্যমে প্রতিদিনের খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি দুর্গত এলাকার গবাদি পশুদের জন্য খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগও নিয়েছে প্রশাসন।
সামগ্রিক ত্রাণবণ্টনের তদারকির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের কৃষি, সেচ ও মৎস্য দপ্তরের ওপর।
বিগত সরকারগুলির ভূমিকার সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ৫০ বছর ধরে কোনও সরকারই এই এলাকার মানুষের স্থায়ী সমাধানের কথা ভাবেনি, তবে বর্তমান সরকার শুধু মৌখিক আশ্বাস না দিয়ে কাজে বিশ্বাসী। গঙ্গাভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই কাজের রূপরেখা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইআইটি কানপুরকে। বিশদ প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) চূড়ান্ত হলেই স্থায়ী বাঁধের কাজ শুরু হবে এবং এই মর্মে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে মহালয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ২৪৮ কিলোমিটার রাস্তা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতের আশ্বাস দেন তিনি।