পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দেশের রাজধানী। যন্তর মন্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সংসদ সদস্যদের প্রতিবাদ পদযাত্রা আটকে দিল্লি পুলিশ ব্যাপক বলপ্রয়োগ করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠল। আটকের প্রক্রিয়ায় রাস্তায় শুয়ে পড়ে কড়া প্রতিবাদ জানান কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা। অভিযোগ, পুলিশি ধস্তাধস্তিতে তাঁর শরীরে একাধিক স্থানে আঁচড়ের দাগ ফুটে ওঠে।

গতকাল আকাশবাণী ভবনের সামনে ধর্নার পর আজ যন্তর মন্তরের নির্দিষ্ট প্রতিবাদ স্থলে যাওয়ার পথে বিরোধী সাংসদদের পথ রোখে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

দিল্লি পুলিশ বলপ্রয়োগ করে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করতে গেলে তিনি সরাসরি রাজপথেই শুয়ে পড়েন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, "আমি এখান থেকে এক চুলও সরব না। কেবল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া সাংসদদের সঙ্গে এভাবেই এরা ব্যবহার করে! মহিলা পুলিশ কর্মীরা আমাকে আঁচড়ে দিয়েছে এবং ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দিয়েছে। ওদের বাহিনীকে ফিরে যেতে বলুন।
"

পরবর্তীতে চড়াও হয়ে পুলিশ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে যন্তর মন্তরের কাছের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে বাসে তুলে আটক করে। একই সময়ে আটক করা হয় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ একাধিক বিরোধী সাংসদকে। কংগ্রেস সাংসদ তথা পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, "আমরা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে যেতে চাইছিলাম। কিন্তু এই সরকার চরম গুণ্ডামিতে নেমে এসেছে। দেশে আজ কোনো গণতন্ত্র নেই।

"

অন্যদিকে কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা পবন খেরা প্রশ্ন তোলেন, "সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার দিয়েছে। যন্তর মন্তর একটি নির্দিষ্ট বিক্ষোভের জায়গা। সেখানে যদি সাংসদদের ঢুকতে না দেওয়া হয়, তবে আন্দোলন আমরা কোথায় করব? দেশের ভোটারদের অধিকার রক্ষায় আমরা লড়াই করছি। তবে দিল্লি পুলিশের দোষ নেই, তাদের চালনা করছেন এক কাপুরুষ প্রধান।"

আরজেডি সাংসদ মনোজ কুমার ঝা পুলিশি লাঠিচার্জের সমালোচনা করে বলেন, "এটি কেবল সূচনা। এবার কেবল সিইসি জ্ঞানেশ কুমার নন, এই এনডিএ সরকারের পতনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। ভারতের আত্মা এবং আমাদের গণতন্ত্রের ওপর লাঠিচার্জ করছে এরা।"