পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কলকাতা হাই কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনা ও কড়া অবস্থানের মুখে পড়ে অবশেষে ছত্তীসগড়ের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেলেন মুর্শিদাবাদের আটকে থাকা বাকি চারজন বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক। বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের রায়পুরের একটি হোল্ডিং সেন্টারে আটকে রাখা হয়েছিল। বুধবার রাত ৯টা নাগাদ তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেয় ছত্তীসগড় পুলিশ। বৃহস্পতিবার মামলার পরবর্তী শুনানির ঠিক আগের রাতে এই পদক্ষেপ করল সে রাজ্যের প্রশাসন।

মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন শফিকুল ইসলাম (৩৯), সাবির শেখ (৪২), নাসিরুদ্দিন শেখ (৩৫) এবং লাল্টু শেখ (২৮)। এঁরা কাজের সূত্রে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও সাহাবাদ থেকে ছত্তীসগড় গিয়ে বাড়ি বাড়ি জিনিসপত্র বিক্রির কাজ করতেন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর বিলাসপুরের সিরগিটি থানার চুঞ্চিয়াপাড়া-গণেশনগর এলাকা থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে মোট ২৩ জন বাঙালি শ্রমিককে আটক করে ছত্তীসগড় পুলিশ। পরবর্তীতে স্থানীয় দেওয়ানি আদালতের নির্দেশে ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯ জন মুক্তি পেলেও, ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে এই চারজনকে আটকে রাখা হয়েছিল।
গত এপ্রিলে ভোটার তালিকায় নাম ফিরে পাওয়ায় বাকি ১৯ জন ছাড় পান, কিন্তু এই চার শ্রমিকের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আবেদন সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত ট্রাইবুনালে বিচারাধীন রয়েছে। এই অবস্থায় তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে আটকে রাখার বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে তাঁদের পরিবার।
গত সোমবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও ছত্তীসগড় প্রশাসনের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ট্রাইবুনালে আবেদন বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও বিলাসপুরের পুলিশ সুপার তথা এফআরও কীভাবে তাঁদের নাগরিকত্ব নির্ধারণ করে আটক রাখতে পারেন?
নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতি। হাই কোর্টের এই কড়া মনোভাবের পরই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নেয় ছত্তীসগড় পুলিশ।
মুক্তির পর শ্রমিকরা জানিয়েছেন, পুলিশি আদেশনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাঁরা বাংলাদেশি নন, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক। অভিযোগ উঠেছিল, ছত্তীসগড় প্রশাসন পরিচয় যাচাইয়ের জন্য মুর্শিদাবাদের জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট চাইলেও পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের একাংশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে তা সময়মতো মেলেনি। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম জানান, নাগরিকদের পাশে থাকা আমলাদের দায়িত্ব, কোনও দয়া নয়। প্রশাসনিক উদাসীনতায় পরিবারগুলিকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হলেও শেষ পর্যন্ত বিচার পাওয়ায় তিনি বিচারব্যবস্থাকে ধন্যবাদ জানান।