পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দেশের রাজধানী দিল্লির প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্মারকগুলির বেহাল দশা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিভিন্ন সরকারি কর্তৃপক্ষের ওপর বেজায় ক্ষুব্ধ দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বুধবার দিল্লির মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন-সহ একাধিক প্রশাসনিক সংস্থাকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির সুরক্ষায় সরকারি দপ্তরগুলির মধ্যে "সমন্বয়ের চরম অভাব" চিহ্নিত করে আগামী ১৫ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব ও এমসিডি কমিশনারসহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিচারপতি আহসানউদ্দিন অমানউল্লাহ এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রাজধানীর স্মারকগুলির সংরক্ষণ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলাকালীন এই কড়া নির্দেশ জারি করেন।
বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে টানাপোড়েন ও দায়িত্বে অবহেলার নিরসন ঘটাতে সমন্বিত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন বিচারপতিরা। শুনানিপর্বে বেঞ্চ মন্তব্য করে, "বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কাজের সঠিক সমন্বয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি যৌথ দল গঠনের জন্যই এই আধিকারিকদের তলব করা হচ্ছে।"আরও পড়ুন:
আদালত এই মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রককে একটি পক্ষ হিসেবে যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে আগামী ১৫ অক্টোবরের শুনানিতে যাঁদের আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালিকা রয়েছেন- কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব, দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কমিশনার, এএসআই-এর ডিরেক্টর জেনারেল, দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও দিল্লি সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের (সচিব।আরও পড়ুন:
রাজধানীর একাধিক ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার করুণ দশা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন জমা পড়েছিল। এই মামলায় আদালতের নিযুক্ত বিশেষ কোর্ট কমিশনার, প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত রিপোর্ট বেঞ্চের কাছে পেশ করেছেন। সেই রিপোর্টের পর্যবেক্ষণ ও তথ্যাদি খতিয়ে দেখেই শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির এই অবহেলার পেছনে দায়ী সংস্থাগুলির পারস্পরিক উদাসীনতা। আমলাতান্ত্রিক লালফিতের ফাঁস কাটিয়ে স্মারকগুলির যথাযথ পুুনরুদ্ধার ও রক্ষাবেক্ষণে এখন সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেখতে চায় সুপ্রিম কোর্ট।