পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সংশোধিত ভোটার তালিকায় (এসআইআর) কারচুপি ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনের আজ চতুর্থ দিন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র করে তুলেছেন বিরোধীরা। আজ সকালে সেন্ট্রাল হলে জড়ো হয়ে স্মারকলিপিতে সাক্ষর করার পর পার্লামেন্ট হাউস থেকে সরাসরি রাষ্ট্রপতি ভবনের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা বা মিছিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিরোধ কর্মসূচি কোনোভাবেই থামবে না।

কংগ্রেস সূত্রের খবর, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্তর্ভুক্ত সমস্ত রাজনৈতিক দলের ফ্লোর লিডারদের চিঠি ও বার্তা পাঠিয়ে আজকের এই প্রতিবাদের পরিকল্পনা জানিয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সেন্ট্রাল হলে দলমত নির্বিশেষে জোটের সমস্ত সাংসদ রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে লেখা একটি যৌথ স্মারকপত্রে স্বাক্ষর করবেন। সেন্ট্রাল হল থেকে বের হয়ে জোটের সাংসদেরা সরাসরি পদযাত্রা করবেন রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে। পথিমধ্যে পুলিশ যেখানেই তাঁদের বাধা দেবে, সেখানেই রাজপথে বসে পড়ে ধর্না দেবেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রেপ্তার হবেন।

তবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিরোধী প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের জন্য সময় দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো বার্তা প্রকাশ পায়নি।

আন্দোলনের ধার বাড়াতে দলের অন্দরেও কড়া অবস্থান নিয়েছেন রাহুল গান্ধী। সূত্রের খবর, টানা এই আন্দোলনের বিগত দিনগুলিতে দলের যেসব কংগ্রেস সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন, তাঁদের তালিকা তলব করে কে সি বেণুগোপালের কাছে জবাব চেয়ে পাঠিয়েছেন তিনি। অনুপস্থিত সাংসদদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে যন্তর মন্তর অভিযান চলাকালীন ব্যাপক পুলিশি ধস্তাধস্তির পর রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রার বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করেছে দিল্লি পুলিশ। তবে সমস্ত আইনি চাপ ও বলপ্রয়োগ অগ্রাহ্য করে সংবিধান রক্ষার দাবিতে রাজপথ আঁকড়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রেখেছে বিরোধী নেতৃত্ব।