পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মাঝ আকাশে রক্তাক্ত অবস্থাতেও বীরত্বের পরিচয় দিয়ে ১৮০ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। তাঁর এই অসামান্য সাহসিকতাকে সম্মান জানাতে ইজরায়েলের সর্বোচ্চ বেসামরিক বীরত্ব পুরস্কার ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড ফর সিভিলিয়ান হিরোয়িজম’ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী একটি বিমানে। বিমানে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ১৮০ জন ছিলেন, যাদের অধিকাংশ ইজরায়েলি।
এই ঘটনায় স্মিতকে সাহসিকতার সঙ্গে সাহায্য করা ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে জেরুজ়ালেমের প্রেসিডেন্টের বাসভবনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে ৬ জনের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন প্রেসিডেন্ট হেরজ়গ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তালি ম্যানেস, জভিকা ম্যানেস, ইয়ানিভ হায়ুন, ডক্টর শোটা মুসায়েভ এবং আসাফ রাজুয়ান। বিমানের বিপদ বুঝে কেউ অ্যালার্ম বাজিয়েছিলেন, কেউ আহত স্মিতের চিকিৎসা করেন, আবার কেউ আততায়ী কো-পাইলটকে চেপে ধরে বেঁধে ফেলেছিলেন।
বর্তমানে গুরুতর জখম স্মিত সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেই প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ডেকে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হেরজগ স্মিতের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে জানান, সিদ্ধান্তের চরম মুহূর্তে তাঁরা পিছিয়ে যাননি এবং মৃত্যুর সামনে বীরের মতো দাঁড়িয়েছিলেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন দেশের মানুষ যেভাবে একজোট হয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচিয়েছেন, সেভাবেই সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যদের প্রাণ বাঁচানো ব্যক্তিদের সম্মানিত করতে এই সাহসিকতার পুরস্কার চালু করেন প্রেসিডেন্ট হেরজ়গ। ঐ হামলাকে গভীর ক্ষত হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এর প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে থাকবে।