পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করল বিজেপি। এই কেন্দ্রে ১ লক্ষ ২২ হাজার ১৩৬ ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে নিয়ম মেনে তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নিজের ছেড়ে আসা কেন্দ্রে হাসিরানি রথের হাত ধরে বিজেপির জয়ের ধারা এবারও অব্যাহত রাখলেন শুভেন্দু।
তবে এবারের উপনির্বাচনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শাসকদল তৃণমূলকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে কংগ্রেস। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান প্রায় ৫০ হাজারের কাছাকাছি ভোট পেয়েছেন। উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। টানা ১২ দিন জেলবন্দি থাকার পর তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্তি পান। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই গ্রেপ্তারির জেরে পাওয়া মানুষের সহানুভূতি কংগ্রেসের ভোটবৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে।
নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের এই উত্থান এবং ভোটবাক্সে সহানুভূতির প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু অধিকারী সমস্ত জল্পনা নস্যাৎ করে দেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস একটি ‘মরা দল’। রাহুল গান্ধীকে নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরলেও তাদের কোনও লাভ হবে না। শুভেন্দুর দাবি, নন্দীগ্রামে তৃণমূলের নিজস্ব যে ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে, তারাই এবার কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রার্থীর গ্রেপ্তারির পিছনে থাকা ষড়যন্ত্রের অভিযোগও সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, ২০২৩ সালের একটি খুনের মামলায় নির্বাচন কমিশনের ওয়ারেন্ট অনুযায়ী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের বেঞ্চে মামলাটি ছিল। এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্পর্ক নেই।