মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল দিল্লিতে। শনিবার সকালে দিল্লি পৌঁছন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কারা। বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই তাঁদের বিমানে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, তাঁদের আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করা হলেও কর্মসূচি থেকে তাঁরা সরে আসবেন না।

তাঁদের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে, এই আন্দোলনের নেপথ্যে বিদেশি শক্তির মদত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন দাবি করেছেন, দেশে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বিরোধী শিবিরের দুটি গোষ্ঠী—কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডি’ জোট এবং আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কী প্রমাণ দিয়েছেন, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।

এদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। দিল্লি পুলিশের দাবি, কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। মধ্য দিল্লির একাধিক এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। বিধিনিষেধ অমান্য করলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে পুলিশ।

ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি শহরজুড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনপথ-কর্তব্যপথ ক্রসিংয়ের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে। এর জেরে কলকাতা থেকে দিল্লিগামী দুটি রাজধানী এক্সপ্রেস বাতিল হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

যন্তর মন্তরের এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও প্রভাব পড়েছে বলে খবর। তবে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং ট্রেন ও ইন্টারনেট পরিষেবা সংক্রান্ত নির্দেশের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।