পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ ও জনসমাগম প্রতিরোধ করতে দিল্লি পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা ও তল্লাশি অভিযানের জেরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে মধ্য দিল্লির ট্রাফিক ব্যবস্থা। নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ফর্ম ৬-এ ইচ্ছাকৃত কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। পুলিশ আগে থেকেই ট্রাফিক ডাইভারশনের বা পথ পরিবর্তনের কথা জানালেও, অফিসযাত্রী ও সাধারণ মানুষকে তীব্র যানজট ও ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া মূল সড়কগুলিতে ব্যাপক ব্যারিকেড ও তল্লাশি অভিযান চালানোর ফলে গাড়ির গতি অত্যন্ত মন্থর হয়ে গেছে।

দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ এক্স-এ আপডেট দিয়ে জানিয়েছে যে, জেনারেল পোস্ট অফিস, বাবা খড়ক সিং মার্গ, অশোক রোড এবং পন্ডিত পন্থ মার্গ থেকে মহাদেব রোডের সংযোগস্থলগুলিতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

নয়ডা থেকে দিল্লি আসার পথে কালিন্দী কুঞ্জ এলাকায় বিশাল যানজট তৈরি হয়েছে। এছাড়া সিলমপুর এলাকাতেও কঠোর নিরাপত্তা চেকিংয়ের কারণে বাম্পার-টু-বাম্পার ট্রাফিক জ্যাম দেখা গেছে। বাণিজ্যিক গাড়িগুলির প্রবেশ নিষিদ্ধ করায় সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যানজট এত তীব্র যে কোনো বাস পাচ্ছিলাম না, তাই বাধ্য হয়ে প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে নিউ দিল্লির দিকে যাচ্ছি।"

পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাফিক পুলিশের শীর্ষকর্তারা মাঠে নেমেছেন। ট্রাফিক জোন-ইআইআই-এর অতিরিক্ত কমিশনার দিনেশ কুমার গুপ্ত জানিয়েছেন যে, ৩০টি প্রধান রুটে পর্যাপ্ত ট্রাফিক স্টাফ মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও ব্লকেড তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প রুট চালু করা হচ্ছে।

ট্রাফিক সদর দপ্তরের যুগ্ম কমিশনার সঞ্জয় কুমার ত্যাগী জানান, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই নিউ দিল্লি জেলার কিছু নির্দিষ্ট সড়কে যান চলাচল ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতে ন্যূনতম অসুবিধা হয়, সেই উদ্দেশ্যে নিয়মিত ট্রাফিক অ্যাডভাইজরি বা নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে এবং পুলিশ কর্মীরা ডাইভারশন পয়েন্টগুলিতে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের পথ নির্দেশ দিচ্ছেন।