উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে রাতের অন্ধকার দূর করতে উদ্যোগী হল ‘ফ্ললেস ফাউন্ডেশন’।ভারত পেট্রোলিয়ামের সহযোগিতায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি ব্লকের ভুবনেশ্বরী গ্রামে শুরু হল ‘প্রজেক্ট প্রকাশ’ প্রকল্প। রবিবার এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বন ও পরিবেশমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও। এই প্রকল্পের আওতায় এলাকায় মোট ১৯০টি সৌরচালিত পথবাতি বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বাড়বে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বন আধিকারিক নিশা গোস্বামী,গোসাবার বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর, বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উৎপল নস্কর-সহ বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব,ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের আধিকারিক, আয়োজক সংস্থার প্রতিনিধিরা এবং পুলিশ ও বন দপ্তরের আধিকারিকেরা।পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে ও অনুষ্ঠানটি বিশেষ তাৎপর্য পায়।সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় নদী, খাঁড়ি ও প্রত্যন্ত জনপদ ছড়িয়ে রয়েছে। বহু জায়গায় রাস্তাঘাটের দু’পাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার পর যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নদী ও জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় রাতের অন্ধকারে বাঘ-সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতির আশঙ্কা স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ বাড়ায়।
এই পরিস্থিতিতে সৌরচালিত পথবাতি বসানো হলে রাতের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও সুবিধাজনক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।উদ্যোক্তাদের দাবি, ‘প্রজেক্ট প্রকাশ’-এর মাধ্যমে ১৯০টি সৌরবাতি স্থাপন করা হলে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও জনবহুল অংশ আলোকিত হবে। প্রত্যন্ত সুন্দরবনে বিদ্যুৎ পরিষেবা বা পর্যাপ্ত পথবাতির অভাব যেখানে দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা তৈরি করে, সেখানে সৌরশক্তির ব্যবহার স্থানীয় পরিকাঠামোর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহারও উৎসাহিত হবে।এদিন প্রকল্পের সূচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বন ও পরিবেশমন্ত্রী সুন্দরবনের মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সৌরবাতি বসানোর ফলে অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকাগুলি আলোকিত হবে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।অন্যদিকে,এদিন মন্ত্রীকে সামনে পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী ও মৎস্যজীবীরা নিজেদের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ এবং সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবন, জীবিকা ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সমস্যা গুলির সমাধানের দাবিও ওঠে তাঁদের কথায়।সুন্দরবনের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র পর্যটন। পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সুবিধাজনক হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ। তবে পর্যটনের প্রসারের পাশাপাশি সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে বলে মনে করছেন পরিবেশপ্রেমীরা।সব মিলিয়ে, কুলতলির ভুবনেশ্বরী গ্রামে ‘প্রজেক্ট প্রকাশ’-এর সূচনা সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় সৌরশক্তিনির্ভর পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় মানুষের রাতের যাতায়াতের সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি এলাকার নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।