পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর নামে 'ভোটচুরি'র অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে গত শনিবার উত্তপ্ত ছিল রাজধানী দিল্লি। এরই মাঝে শনিবার গভীর রাতে আচমকা নতুন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করল কেন্দ্র সরকার। রাজস্থান ক্যাডারের ২০১০ সালের আইএএস আধিকারিক প্রকাশ রাজপুরোহিতকে এই পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসন এটিকে রুটিন বদল বলে দাবি করলেও, বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে এই সিদ্ধান্তটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, শনিবারের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন দপ্তরে মোট ২৭ জনকে উচ্চপদে নিয়োগ করা হয়েছে।
এর আগে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন সঞ্জয় কুমার। তিনি মূলত ভোটার তালিকা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দিকটি সামলাতেন। কিন্তু গত আগস্ট মাসে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, গত বছর ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার থেকে ডেপুটেশনে আসা সীমা খন্নাকে দিয়ে কমিশনে স্বেচ্ছাচার চালাতেই সঞ্জয়কে সাইডলাইন করা হয়েছিল। এই সীমা খন্নার বিরুদ্ধেই বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলি। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমার ভূমিকা এবং সঞ্জয়কে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিলেন খোদ জ্ঞানেশ কুমারের দুই সহকারী কমিশনার সুখবিন্দর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। কিন্তু তাঁদের সেই আপত্তিতে কোনও কাজ হয়নি।
নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে ইন্ডি জোট। অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারকে সরানো না হলে আগামী সোমবারও কংগ্রেস ও ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে ফের বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির মাঝেই তড়িঘড়ি নতুন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিষয়টি নয়া মাত্রা যোগ করল।