পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল রাজধানী। অতিরিক্ত পুলিশি কড়াকড়িতে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া এক মামলায় রবিবার কড়া নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে কাউকে বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। পাশাপাশি দিল্লিতে ইন্টারনেট পরিষেবা এবং রেল ও মেট্রো চলাচল অবিলম্বে স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ এদিন পর্যবেক্ষণ দিয়েছে যে, প্রতিবাদের অধিকার সকলেরই রয়েছে, তবে তা আইন ভেঙে করা সমর্থনযোগ্য নয়।শনিবারের ওই বিক্ষোভ রুখতে দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করেছিল প্রশাসন। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি বহু ট্রেন বাতিল করা হয়। দিল্লির ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয় এবং যন্তর মন্তর চত্বরে ইন্টারনেট পরিষেবাও ব্যাহত করা হয়। এর ফলে সাধারণ মানুষের চরম হয়রানি হয় বলে অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের হয়েছিল।
রবিবার এই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানায়, যে সমস্ত এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি নেই, সেখানে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের কোনওভাবেই বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চরম প্রয়োজন না থাকলে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে হবে। পাশাপাশি, অপ্রয়োজনীয় ব্যারিকেড সরিয়ে সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের অবাধ যাতায়াত সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর এবং তার সংলগ্ন এলাকা থেকে অবিলম্বে ১৬৩ ধারা প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ ও মেট্রো কর্তৃপক্ষের কাছে গোটা বিষয়টির জবাব তলব করেছে শীর্ষ আদালত।
আদালতে মামলাকারীর হয়ে আইনজীবী কপিল সিবাল সওয়াল করেন। তিনি জানান, পুলিশের এই কড়া বিধিনিষেধের কারণে সাধারণ নাগরিকরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং যাতায়াতে চরম বাধার মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই অভিযোগগুলির বিরোধিতা করে জানান, পুলিশের কোনওরকম পূর্বানুমতি ছাড়াই এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে শনিবার রাত দশটার মধ্যেই সমস্ত মেট্রো স্টেশন ফের খুলে দেওয়া হয়েছে এবং ইন্টারনেট পরিষেবাও স্বাভাবিক করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট।