পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কেবল অভিজাত দক্ষিণ মুম্বই আর ওরলির রাস্তাঘাট পরিষ্কার থাকলেই পুরো শহর পরিষ্কার হয়ে যায় না। মুম্বইয়ের আবর্জনা ও জঞ্জাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে পুরনিগম বিএইচএমসি-কে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করল বোম্বে হাইকোর্ট। শহরের স্বাস্থ্য ও সাধারণ মানুষের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুরসভাকে ব্যর্থ বলে চিহ্নিত করে আদালত প্রশ্ন তোলে, বর্জ্য অপসারণের একাধিক নিয়ম সত্ত্বেও কেন এখনও খোলা রাস্তায় যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বন্ধ হচ্ছে না?
আরও পড়ুন:
কানজুরমার্গ ল্যান্ডফিলে জঞ্জাল ফেলা সংক্রান্ত একাধিক আবেদনের শুনানি চলাকালীন বুধবার বিচারপতি গিরিশ কুলকার্নি এবং বিচারপতি নীলা গোখলের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শহরের ২৪টি ওয়ার্ডের জন্যই পরিচ্ছন্নতার পরিকল্পনা পেশ করা হলেও বাস্তবে যে তার কোনো প্রতিফলন নেই, তা স্পষ্ট করে দেয় আদালত।
বিশেষ করে জোগেশ্বরী ও মালাডের মতো পশ্চিমাঞ্চলীয় উপশহরগুলির করুণ দশাকে চিহ্নিত করেছেন বিচারপতিরা।আরও পড়ুন:
ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ জানিয়ে বলে, "সব জায়গায় শুধু জঞ্জাল আর নোংরা ছড়িয়ে রয়েছে... দক্ষিণ মুম্বই মানেই তো পুরো শহর নয়। দক্ষিণ মুম্বই কিংবা ওরলির মতো কয়েকটি অভিজাত এলাকা পরিষ্কার রাখার অর্থ এই নয় যে গোটা মুম্বই পরিচ্ছন্ন হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।"
আরও পড়ুন:
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বরও জঞ্জাল সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হলে ওয়ার্ড অফিসারদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা রুজু করার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল হাইকোর্ট।
বহু নির্দেশিকা জারি সত্ত্বেও পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেন বিচারকেরা। আদালতের মতে, সমস্যাটি দ্বিমুখী— একদিকে যেমন কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইনের কঠোর প্রয়োগ হচ্ছে না, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নাগরিক সচেতনতারও অভাব রয়েছে। বেঞ্চ মন্তব্য করে, "নাগরিকদের মানসিকতায় একটি বড় সমস্যা রয়েছে। যেখানেই একটু ফাঁকা জায়গা দেখা যাচ্ছে, সেখানেই ময়লা ফেলা হচ্ছে। আমাদের দেশে কড়া আইন রয়েছে, কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তার সঠিক রূপায়ণ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে।"আরও পড়ুন:
আদালত বিএমসি-র কাছে একটি সমন্বিত হলফনামা চেয়েছে, যেখানে শহরের সঠিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ওয়ার্ড অফিসাররা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং সম্প্রতি ২ অক্টোবর 'গান্ধী জয়ন্তী'র স্বচ্ছতা অভিযানে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—তার বিশদ বিবরণ দিতে হবে। আগামী ২২ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।