পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: পারস্পরিক সম্মতির সম্পর্কে থাকার পর সঙ্গীকে বিয়ে করতে অস্বীকার করা বা সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটানোকে কেবল এই একটিমাত্র যুক্তিতে 'আত্মহত্যায় প্ররোচনা' হিসেবে গণ্য করা যায় না। এক তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণে তেলঙ্গানার একটি মামলায় ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দিয়ে এই নজিরবিহীন নির্দেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট।
আরও পড়ুন:
বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ তেলঙ্গানার মেডচল-মালকাজগিরি জেলার ট্রায়াল কোর্টে বিচারাধীন মামলাটি খারিজ করে দেন। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কোনো আচরণ বা পদক্ষেপ ওই তরুণীকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে—এমন কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ তথ্যপ্রমাণ মামলায় মেলেনি।
আরও পড়ুন:
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মৃত তরুণী তাঁর প্রেমিক বা প্রথম আবেদনকারীর সঙ্গে তিন মাস লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। পরিবারের আপত্তি ও নানাবিধ চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত প্রেমিক তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন, যার পর ওই তরুণী চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পুলিশ প্রেমিকের পাশাপাশি তাঁর বাবা, মা, বোন ও বন্ধুদের বিরুদ্ধেও আইপিসি-র ৩০৬ ধারায় (আত্মহত্যায় প্ররোচনা) মামলা দায়ের করেছিল।
আরও পড়ুন:
রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি পারদিওয়ালার বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, "যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভিন্ন মানুষের প্রতিক্রিয়া ও মানসিক সাড়া ভিন্ন প্রকৃতির হয়।
কোনো সম্পর্কের বিচ্ছেদের চরম পরিণতি যদি আত্মহত্যা হয়, তবে সর্বদাই সাবেক সঙ্গীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। বিয়েতে অসম্মতি প্রকাশ করার অর্থ এই নয় যে অভিযুক্তের উদ্দেশ্য ছিল তরুণীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া, কিংবা তিনি জানতেন যে এই সিদ্ধান্তের কারণে তরুণী আত্মহত্যা করবেন।"আরও পড়ুন:
আদালত আরও প্রশ্ন তোলে, তরুণী আত্মহত্যার চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যখন তাঁর জ্যেষ্ঠ ভগিনীকে ফোন করে প্রেমিক বিয়েতে অমতের কথা জানান, তখন পরিবার কেন তৎক্ষণাৎ তা প্রতিরোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
আরও পড়ুন:
অভিযোগকারীদের সম্পূর্ণ দাবি সত্য হিসেবে ধরে নিলেও এটি সর্বোচ্চ এক তরফা বিবাহ প্রস্তাব প্রত্যাখানের ঘটনামাত্র, যা কোনোভাবেই ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা অনুযায়ী প্ররোচনার অপরাধ গড়ে তোলে না। ভিত্তিহীন অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে এই ফৌজদারি মামলা চালানো আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার—এই যুক্তি দেখিয়ে অভিযুক্তরা হেফাজতে থাকলে তাঁদের অবিলম্বে মুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।