পুবের কলম প্রতিবেদক: মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে সংযুক্ত করে তুলে দেওয়ার যে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী করেছেন, তা পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাল বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম। রবিবার কলকাতার অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসে এক আলোচনা চক্রে সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ইসরারুল হক মন্ডল বলেন, রাজ্যের ৬১৪টি সরকার পোষিত মাদ্রাসা রয়েছে। এই মাদ্রাসাগুলির সংখ্যালঘু মর্যাদার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে।  বর্তমান নিয়োগ কাঠামোর আইনগত অবস্থান স্পষ্ট না করে এসএসসি’র মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিলে জটিলতা তৈরি হবে।

তাঁদের দাবি, মাদ্রাসা আইন ও আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে। ফোরামের মতে, মাদ্রাসার সংখ্যালঘু মর্যাদার ওপর-এর প্রভাব. মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের (এমএসসি) স্বাতন্ত্র ও কার্যকারিতা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা দরকার। সংগঠনের পক্ষ থেকে এদিন আলোচনা হয়, একটি নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে; আইনগত দিক, নিয়োগের স্বচ্ছতা, মাদ্রাসার ঐতিহ্য ও ছাত্র-শিক্ষকদের স্বার্থ ; সব দিক খতিয়ে দেখে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।  উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক মীর রবিউল ইসলাম, মাদ্রাসা শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান, অধ্যাপক সাইফুল্লা, মুহাম্মদ কামরুজ্জামান প্রমুখ।

ইসরারুল হক মণ্ডল বলেন, অতীতে বিভিন্ন মহলে এবং মন্ত্রিসভায় ওবিসি বা অন্যান্য বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনা বা প্রশ্ন উঠেছে। বক্তা প্রশ্ন তুলেছেন যে, অতীতে সমস্ত সরকারই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে পদ্ধতিগত ত্রুটি বা আইনি দিকগুলো যথাযথভাবে না মেনে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং তার স্বচ্ছতা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং অন্যান্য রাজ্যে এর প্রয়োগের বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। বক্তা উল্লেখ করেছেন যে, সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষেত্রে এবং মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের স্বচ্ছতার প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্ট ইতিবাচক রায় দিয়েছে।

অধ্যাপক সাইফুল্লা মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন ও স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগের পার্থক্য উল্লে' করেন। তিনি বলেন, এসএসসি’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হলে মাদ্রাসায় শিক্ষক পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এখন এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকলকে পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি। 
 মুহাম্মদ কামরুজ্জামানের বক্তব্য, আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে মাদ্রাসার সমস্যা নিয়ে জানাতে চাই। এই মাদ্রাসায় মুসলিমদের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীরাও পড়ে। মাদ্রাসায় বহু অমুসলিম শিক্ষকও শিক্ষকতা করেন। সেই জন্য মাদ্রার ঐতিহ্য অটুট রেখে উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হোক।