উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিচারাধীন এক বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে। সোমবার বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের বাথরুম থেকে আজহারউল লস্কর নামে ওই বন্দির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর বাড়ি জীবনতলা থানা এলাকায়। গামছার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হলেও, কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিশেষ করে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক বন্দির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীদের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকাকে বিয়ে করার অভিযোগে আজহারউল লস্করের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে বারুইপুর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু সংশোধনাগারে নিয়ে যাওয়ার পরের দিন,১১ অক্টোবর, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।এরপর হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
সোমবার হাসপাতালের বাথরুমের ভিতরে গলায় গামছার ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনার পরেই হাসপাতালের ভিতরে বন্দির নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন বিচারাধীন বন্দির এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে পুলিশের নজরদারির মধ্যে থেকেও তিনি আত্মহত্যা করার সুযোগ পেলেন? ঘটনার সময় হাসপাতালের বাথরুমের আশপাশে কেউ ছিলেন কি না এবং মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।তবে এই ঘটনায় নিরাপত্তার গাফিলতি ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
তদন্তের পরেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।এ বিষয়ে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার সুপর্ণকান্তি হালদার জানিয়েছেন, ওই বন্দির পেটের সমস্যা ছিল। পাশাপাশি তাঁর মানসিক সমস্যাও ছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই কারণেই তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে।মঙ্গলবার  মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, হাসপাতালের ভিতরে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল এবং বন্দির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীদের ভূমিকা কী ছিল, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।