পুবের কলম, নয়াদিল্লি: ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য নির্বাচন কমিশনারদের আইনি দায়মুক্তি বা বিশেষ রক্ষাকবচ দেওয়ার আইনি বৈধতা পরীক্ষা করে দেখতে রাজী হলো দেশের শীর্ষ আদালত। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে নেওয়া পদক্ষেপ বা মন্তব্যের জন্য নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলে ২০২৩ সালের আইনে যে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এক আবেদনে কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
 
বেসরকারি নজরদারি সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’ (এডিআর)-এর দাখিল করা আবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে শীর্ষ আদালত। আবেদনটি এই সংক্রান্ত অন্যান্য বিচারাধীন মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এবং আগামী ২৯ অক্টোবর একত্রে শুনানি হবে।
 
২০২৩ সালে পাশ হওয়া ‘চিফ ইলেকশন কমিশনার অ্যান্ড আদার ইলেকশন কমিশনার্স (অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কন্ডিশনস অফ সার্ভিস অ্যান্ড টার্ম অফ অফিস) অ্যাক্ট’-এর ১৬ নম্বর ধারাটিই এই আইনি লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

এই ধারায় সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, বর্তমান বা প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অথবা নির্বাচন কমিশনারদের অফিশিয়াল দায়িত্ব পালনকালে গৃহীত কোনো পদক্ষেপ, সিদ্ধান্ত বা বক্তব্যের জন্য দেশের কোনো আদালত কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা গ্রহণ করতে পারবে না। ধারা অনুযায়ী, পূর্বে চলা বা বিচারাধীন মামলাগুলিও এই আইনি সুরক্ষার কারণে আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে চলে যাবে।
 
সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে নোটিশ জারির অর্থ এই নয় যে আদালত বিধানটিকে ইতিমধ্যেই অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে; বরং এর মাধ্যমে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টিতে তাদের সরকারি অবস্থান ও যুক্তি পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলাটি একটি মৌলিক আইনি প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে—অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার স্বার্থে নির্বাচন কমিশনারদের কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যতটা প্রয়োজন, তা করতে গিয়ে সাংবিধানিক জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসনের নীতিকে কতটা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব? আইনের ১৬ নম্বর ধারাটি কোনো ব্যক্তিগত অপরাধকে ছাড় না দিলেও, সরকারি পদের আড়ালে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপোষণ হলে তা আদালতের নজরদারির বাইরে চলে যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জোর আইনি লড়াই।