পুবের কলম, নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভ দমনে দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বাল। এক সাংবাদিক সম্মেলনে সিব্বাল প্রশ্ন তোলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে যদি জনতা জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা ১৬৩ ধারা জারি থাকে, তবে ভিন রাজ্য থেকে, ট্রেন বা রেলওয়ে স্টেশন থেকে এমনকি বিমান ও বাড়ি থেকে কীভাবে মানুষদের তুলে আনা হলো? বিমানের ভেতর কি বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা কার্যকর ছিল? পুলিশের এই নির্বিচারে ধরপাকড় এবং আটকের প্রক্রিয়াকে 'আইনসম্মত গ্রেফতার'-এর বদলে আক্ষরিক অর্থেই 'অপহরণ'-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন আইনজীবী সিব্বাল।

 

সাংবাদিক সম্মেলনে কপিল সিব্বাল তুলে ধরেন, আইন অনুযায়ী পুলিশ কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতেই পারে, কিন্তু তার নির্দিষ্ট আইনি নিয়ম রয়েছে। গ্রেফতারির কারণ দর্শানো, আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ দেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার আটক ব্যক্তির রয়েছে। কিন্তু গত ১০ অক্টোবর রাজধানীতে যা ঘটেছে, তা সমস্ত আইনি সীমাকে লঙ্ঘন করেছে।

সিব্বালের অভিযোগ, কর্নাটকের মোহসিন খান ও রাজেশ মোহন গৌড়া, হাওড়ার রঞ্জিৎ কোলে এবং বীরভূমের আমিনা খানসহ বহু মানুষকে দিল্লির উদ্দেশে ট্রেন ধরার সময় বা স্টেশন থেকে আটক করা হয়েছে।

এমনকি তাঁদের অনেকেই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতেও আসছিলেন না। কোন আইনের বলে আটক ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া বা ভেঙে ফেলা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এছাড়া আইনজীবীদের থানায় আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। সিজেপি-র আইনি বিভাগের প্রধান তথা আইনজীবী রত্ন সিংকে গাড়ি থেকে নামিয়ে আটকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, তাঁর সহকর্মীরা এ বিষয়ে মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করা সত্ত্বেও দীর্ঘক্ষণ কোনো নির্দেশ মেলেনি।

সিজেপি বিক্ষোভের জেরে কেবল সাধারণ মানুষ বা রাজনৈতিক কর্মীই নন, খোদ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরাও পুলিশি বর্বরতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রবীণ আইনজীবী সিব্বাল জানান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাদান ফরাসতকে সফদরজং ফ্লাইওভারের ওপর পুলিশ শারীরিকভাবে হেনস্থা করে এবং টেনেহিঁচড়ে আটক করে, যে সময় তাঁর জামাকাপড়ও ছিঁড়ে দেওয়া হয়।