পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবং ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলন ঘিরে উত্তাল রাজধানী দিল্লি। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো অবৈধ আটক বা বলপ্রয়োগ করা যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশকে কার্যত উপেক্ষা করে দ্বিতীয় দিনেও রাজপথ থেকে নির্বিচারে আন্দোলনকারীদের আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে এক পুরুষ পুলিশকর্মীর দ্বারা এক মহিলা বিক্ষোভকারীকে রাস্তা ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় পুলিশি আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে যেভাবে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, তা দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মানবাধিকারের পরিপন্থী বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহল।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষোভ দেখাতে আসা এক মহিলাকে একজন পুরুষ পুলিশকর্মী রাস্তা ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি দাওয়া পেশ করতে আসা আন্দোলনকারীদের ওপর এই ধরনের অমানবিক আচরণ ও বলপ্রয়োগের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্ট যখন স্পষ্ট রায় দিয়েছে যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং পুলিশ যেন কোনোভাবেই অহেতুক কড়াকড়ি বা অবৈধ আটক না করে, ঠিক সেই সময়েই এই ধরনের ঘটনা আদালতের নির্দেশকে অবমাননা করার শামিল।

আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি দ্বিতীয় দিনেও দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে সংবাদমাধ্যমের ওপর পুলিশি দমনপীড়ন অব্যাহত ছিল। সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের মাঠে থেকে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ নির্বিচারে সংবাদকর্মীদের আটক করেছে বলে অভিযোগ।
বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্রীনিবাস জৈন সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে জানান যে, সুপ্রিম কোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অন্তত সাতজন বা তারও বেশি সাংবাদিককে জোর করে পুলিশি আটক ভ্যানে তোলা হয়েছে।