পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে বিপুল জয়ের পর কলকাতায় মেগা বিজয় মিছিল করল বিজেপি। সোমবার উত্তর কলকাতার মুরলীধর সেন লেনে দলের পুরনো রাজ্য দফতরের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মিছিল শেষে ভিক্টোরিয়া হাউসের কাছে আয়কর ভবনের সামনে আয়োজিত সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী আসন্ন কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনে জয়ের ডাক দেন। তিনি বলেন, রাজ্যে ইতিমধ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার রয়েছে, এবার কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা দখল করে 'ট্রিপল ইঞ্জিন' গড়তে হবে।
সভায় উপস্থিত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, সদ্য সমাপ্ত উপনির্বাচন সম্পূর্ণ হিংসামুক্ত ছিল এবং রাজ্যের মানুষ একদলীয় শাসন থেকে মুক্তি চেয়েছেন। পাশাপাশি, শুভেন্দু এবং শমীক দুজনেই দাবি করেন যে, সংখ্যালঘুরাও এখন বিজেপির উন্নয়নমুখী রাজনীতিতে আস্থা রেখে তাঁদের ভোট দিচ্ছেন। রেজিনগরের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনে তৃণমূল প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া তারই প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মিছিলে অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দুই জয়ী প্রার্থী হাসিরানি রথ এবং শাখারভ সরকারও।
তবে বিজেপির এই জমায়েতস্থল নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে মমতা তৃণমূল। দলের নেতা কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, ২০১৮ সালের আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী যে এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ এবং যেখানে তৃণমূলকে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি, সেখানে বিজেপি কী করে মঞ্চ বাঁধার অনুমতি পেল? আইন ভাঙার অভিযোগ তুলেছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও। যদিও তৃণমূলের এই অভিযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। দলের উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষের পালটা দাবি, রাজ্যের মানুষের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে তৃণমূল নেতারা এখন অপ্রাসঙ্গিক কথা বলছেন।