দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। যন্তরমন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বিকল্প তিনটি জায়গা নির্দিষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে আন্দোলনকারীদের হুঁশিয়ারি, প্রতিবাদের স্থান বদলে দিলেও আন্দোলন থামানো যাবে না। বরং গোটা দেশই প্রতিবাদের মঞ্চ হয়ে উঠবে বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে।

সোমবার প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, যন্তরমন্তরের পরিবর্তে দিল্লির রামলীলা ময়দান, পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড এবং উত্তর দিল্লির বুরারি গ্রাউন্ডে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সংসদ ভবন ও কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরের কাছ থেকে প্রতিবাদের স্থান সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তাঁদের মতে, এর ফলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পরিসর সংকুচিত হবে।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, “মোদি সরকারের উদ্দেশ্য সফল হবে না। অব পুরা দেশ যন্তরমন্তর বনেগা।” তাঁর কটাক্ষ, প্রধানমন্ত্রীর সরকার এবার গণতন্ত্রকেই ‘ডি-নোটিফাই’ করবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। তাঁর বক্তব্য, যন্তরমন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিলেও মানুষের প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সংসদ ভবনের কাছের বোট ক্লাব ছিল প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের অন্যতম নির্ধারিত স্থান।

সংরক্ষণবিরোধী আন্দোলন-সহ বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বোট ক্লাবের পরিবর্তে দিল্লির কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে যন্তরমন্তরকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়। এত দিন সংসদ মার্গে অবস্থিত যন্তরমন্তরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কর্মসূচি পালন করে আসছিল।

নতুন নির্দেশিকায় বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত তিনটি স্থানের দূরত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, সিবিডি গ্রাউন্ড ও বুরারি গ্রাউন্ড সংসদ ভবন এলাকা থেকে অনেকটাই দূরে। রামলীলা ময়দান তুলনামূলক কাছে হলেও সেখানেও প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আন্দোলনকারীদের আরও দাবি, রামলীলা ময়দান ও সিবিডি গ্রাউন্ডে নবরাত্রির মেলা চলায় আপাতত ওই দুই স্থানে কর্মসূচি আয়োজন করা কঠিন।

এদিকে, সোমবার সকালে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে দিল্লি পুলিশের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন সিজেপি নেতৃত্ব। সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে জানতে চান, তাঁরা কবে এবং কোথায় আন্দোলন করতে পারবেন। তাঁদের হুঁশিয়ারি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুলিশ স্পষ্ট করে কিছু না জানালে তাঁরা নিজেদের মতো করে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ বন্ধের সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনকারীরা পরবর্তী কর্মসূচি কোথায় করবেন, তা নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট একটি প্রতিবাদস্থল বন্ধ করে আন্দোলন থামানো যাবে না। বরং প্রতিবাদের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে বলেই দাবি আন্দোলনকারীদের।