মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সরব বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। ভোটার তালিকায় কারচুপি ও ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল শুরু করেন বিরোধী নেতারা। আর সেই সময়েই দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেসকে পাল্টা আক্রমণ করল বিজেপি। দলের অভিযোগ, নির্বাচনে বারবার পরাজয়ের জন্য নির্বাচন কমিশন নয়, দায়ী কংগ্রেসের দিশাহীন নেতৃত্ব।

দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেসের নেতৃত্বকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনে কংগ্রেসের খারাপ ফলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটে পরাজয়ের পর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দায়ী করা কংগ্রেসের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

শিবরাজের কথায়, “গত কয়েক বছর ধরে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে আসছে কংগ্রেস। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, নির্বাচনে পরাজয়ের পর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দায়ী করা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছে। একের পর এক ভোটে হেরে বিক্ষোভ দেখানো এবং রাস্তায় নামাটাই কংগ্রেসের ভবিতব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এর জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী নয়।

এর দায় কংগ্রেসের নিজেদের দিশাহীন নেতৃত্বের।”

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আরও অভিযোগ, কংগ্রেসের নেতৃত্বের সঙ্গে দেশ ও দেশবাসীর কোনও যোগ নেই। তাঁর বক্তব্য, দলের নির্বাচনী ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে হলে কংগ্রেসকে নিজেদের নেতৃত্বের দিকেই তাকাতে হবে।

কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অভিযোগ তুলেও এ দিন সরব হয় বিজেপি। সামনে পঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন।

তার আগে দুই রাজ্যেই প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে বলে উল্লেখ করে গেরুয়া শিবির।

উত্তরপ্রদেশে প্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আরাধনা মিশ্র মোনাকে, যিনি প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। অন্যদিকে, পঞ্জাবে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন রাহুল-ঘনিষ্ঠ অমরিন্দর সিংহ রাজা ওয়ারিং। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় হকি দলের প্রাক্তন অধিনায়ক পারগত সিংহ।

বিজেপির দাবি, দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণেই নির্বাচনের আগে রাজ্যস্তরে নেতৃত্বে পরিবর্তন করতে হচ্ছে কংগ্রেসকে।

একদিকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ও ‘ভোটচুরি’র অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন, অন্যদিকে কংগ্রেসের নির্বাচনী ব্যর্থতা নিয়ে বিজেপির পাল্টা আক্রমণ—সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ এবং কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে বিজেপির বক্তব্য, দুটিই সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের দাবি।