পুবের কলম ওয়েবডেস্ক :
হিন্দু জাগরণ মঞ্চের বিরিয়ানি-সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে মত প্রকাশের অধিকারের পক্ষে সওয়াল করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার রানাঘাটে একটি পুজোর উদ্বোধনে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “মত প্রকাশের অধিকার সবার আছে।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।রানাঘাট   উত্তরপশ্চিমের বিধায়ক পার্থসারথি  চ্যাটার্জীর পাড়ায়  পুজোর উদ্বোধন উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে উঠে আসে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের বিরিয়ানি-সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গ। সেই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী মত প্রকাশের অধিকারের কথা তুলে ধরেন।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার। তবে এই অধিকারের প্রয়োগ, তার সামাজিক প্রভাব এবং বিভিন্ন সংগঠনের বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন নয়। বিশেষত ধর্মীয় পরিচয়, খাদ্যাভ্যাস ও সামাজিক সম্প্রীতির মতো সংবেদনশীল বিষয় সামনে এলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্যের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের তাৎপর্য বিচার করতে গেলে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসে। মত প্রকাশের অধিকার স্বীকার করার পাশাপাশি উসকানিমূলক বা বিভাজন সৃষ্টিকারী বক্তব্যের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অবস্থান কী হবে? ধর্মীয় অনুভূতি ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্যভারসাম্য রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
এই প্রশ্নগুলির উত্তরও জনপরিসরে আলোচনার দাবি রাখে।
তবে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের বিরিয়ানি-সংক্রান্ত মন্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিস্তারিত বক্তব্য জানা না গেলে তাঁর মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন।
রানাঘাটের পুজো উদ্বোধন ঘিরে এই বক্তব্য তাই নিছক আনুষ্ঠানিক মন্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্নে আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলি কী অবস্থান নেয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
মঙ্গলবার নদিয়ার জোড়া পুজোর উদ্বোধনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন বেলা ১২টা নাগাদ কপ্টারে চেপে নদিয়ার রানাঘাটের ছাতিমতলা ময়াদানে নামেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেখান থেকে সড়কপথে পৌঁছন চারের পল্লি এলাকার দুর্গাপুজোর প্রাঙ্গণে। নিজের হাতে উদ্বোধন করেন এই পুজো।
আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন জেলার একাধিক পুজো ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করতেন। এবার পালা বদলের পর প্রথমবার নিজে উপস্থিত থেকে পুজোর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  রানাঘাট চত্বরে পুলিশ কড়া নজরদারি ছিল। মুখ্যমন্ত্রী ফিতে কেটে উদ্বোধন করেন এই পুজোর। চারের পল্লির পুজোর এ বার ৭৫ বছর।