পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ভুরুতে ক্ষতের দাগ ও ব্যান্ডেজ তখনও দগদগে, তারই মধ্যে আন্দোলনের পরবর্তী রণকৌশল স্পষ্ট করে দিলেন ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (এসএফআই)-এর সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজি। রবিবাসরীয় রাজপথে কনট প্লেস থেকে যন্তর মন্তরের দিকে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় দিল্লি পুলিশের হাতে আটক শত শত বাম ছাত্রকর্মীর মধ্যে তিনিও ছিলেন অন্যতম। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ঘোষণা করেন যে, ভোটার তালিকার বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা এই আন্দোলন এবার দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়বে। রবিবারের মিছিলে তিনি ও তাঁর শতাধিক সহপাঠী পুলিশের নির্মম প্রহারের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন এই ছাত্র নেতা।
পুলিশের কড়াকড়িতে আহত আদর্শ সাজি অভিযোগ করেন যে, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল চলা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁদের ওপর অপরাধীদের মতো চড়াও হয়। দিল্লি পরিবহণ নিগমের বাস ও প্রিজন ভ্যানে তোলার পর তাঁদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করা হয়।
এসএফআই সভাপতির অভিযোগ, যে প্রিজন ভ্যানে তাঁদের তোলা হয়েছিল, সেটি কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল যাতে আন্দোলনকারীরা বুঝতে না পারেন তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা তাঁদের ওইভাবে আটকে রাখা হয়। মারধরের চোটে বহু শিক্ষার্থী জ্ঞান হারান এবং একাধিক মহিলা আন্দোলনকারীর পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়। এমনকি যে সাধারণ মানুষরা ঘটনার ভিডিও করছিলেন, তাঁদেরও মারধর করে ভ্যানে তোলা হয়। সাজি দাবি করেন, পুলিশের পাশাপাশি লাঠি হাতে বেশ কিছু সিভিল ড্রেসের ব্যক্তি—যাঁদের তিনি “আরএসএস গুন্ডা” বলে চিহ্নিত করেছেন—মহিলা ও ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়।
দিল্লি পুলিশ অবশ্য সামাজিক মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে যাবতীয় অভিযোগকে 'বিভ্রান্তিকর' বলে দাবি করেছে। তবে পুলিশের এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে সাজি বলেন, "বাস্তবতা এটাই যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ চরম বর্বরোচিত অত্যাচার চালিয়েছে।"