পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বাতিলের দাবিতে চলা আন্দোলনে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে চরম হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগ তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার দিল্লিতে নিগৃহীত পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। সেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর শ্রবণশক্তি নষ্ট করে দেওয়া এবং অন্য এক ছাত্রীর যৌনাঙ্গে আঘাত করার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আনা হয়। পাশাপাশি, পুলিশের লাঠির জবাব অহিংস উপায়ে দেওয়ার বার্তা দিয়ে রাহুলের পাশেই দাঁড়িয়ে এক ছাত্র বাঁশি বাজিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান।
সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আথিরাকে সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
এর পাশাপাশি, ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) এক ছাত্রীকেও সাংবাদিক বৈঠকে নিয়ে আসেন রাহুল, যাঁকে তিনি 'শেরনি' বলে উল্লেখ করেন। ওই ছাত্রী চঞ্চল যাদব নামে এক মহিলা কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বাসের মধ্যে ধাক্কা দেওয়া, নখ দিয়ে আঁচড়ে দেওয়া এবং থাপ্পড় মারার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর আরও দাবি, থানার ১০৭ নম্বর ঘরে সাদা পোশাকের মহিলা পুলিশকর্মীরা তাঁদের ব্যাপক মারধর করেন এবং হুমকি দেন। ওই ছাত্রীই অভিযোগ করেন, কেরলের অন্য এক ছাত্রী তাঁকে পুলিশি হেনস্থার হাত থেকে বাঁচাতে গেলে তাঁর যৌনাঙ্গে আঘাত করে পুলিশ এবং রাস্তায় ফেলে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হয়।
যদিও সাংবাদিক বৈঠকে উঠে আসা এই যাবতীয় অভিযোগ পড়ুয়া ও বিরোধী নেতৃত্বের তরফ থেকেই করা হয়েছে। এই বিষয়ে দিল্লি পুলিশের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের প্রতিবাদে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সদস্যরাও লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং গত কয়েকদিন ধরেই দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক পুলিশি ধরপাকড় চলছে।