পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই অনগ্রসর মুসলিম শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্তি বা সেই সংক্রান্ত সংরক্ষিত কোটার সুবিধা আপনাআপনি পাওয়া যাবে না। মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ববর্তী রায়কে বহাল রেখে এই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ প্রদান করল সুপ্রিম কোর্ট। তামিলনাড়ু রাজ্য সরকারের দায়ের করা একটি বিশেষ আপিল খারিজ করে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কেবল ধর্ম পরিবর্তন করে কোনো ব্যক্তি রাজ্যের নির্দিষ্ট বা তালিকাভুক্ত অনগ্রসর মুসলিম সম্প্রদায়ের অংশ হতে পারেন না।
আরও পড়ুন:
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ধর্ম পরিবর্তনের ফলে হিন্দু সামাজিক ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা পূর্ববর্তী আইনি স্বাধিকার ও সামাজিক পরিচয় স্থায়ীভাবে ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে ধর্মান্তরিত হয়েই পূর্ববর্তী অনগ্রসর বা সংরক্ষিত ক্যাটাগরির দোহাই দিয়ে মুসলিম রিজার্ভেশনের দাবি করা চলে না।
আরও পড়ুন:
গত ২৫ জুন, ২০২৬ তারিখে মাদ্রাজ হাইকোর্ট তামিলনাড়ু সরকারের ২০২৪ সালের ৯ মার্চের একটি বিতর্কিত নির্বাহী আদেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করে দিয়েছিল। ওই সরকারি আদেশে বলা হয়েছিল যে, হিন্দু সমাজের অনগ্রসর শ্রেণী, অতি অনগ্রসর শ্রেণী, চিহ্নিত গোষ্ঠী এবং তফসিলি জাতি থেকে কোনো ব্যক্তি ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে তিনি রাজ্যে অনগ্রসর মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত ৩.৫ শতাংশ সাব-কোটায় সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন। রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্তকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানালেও তা টিকল না।
আরও পড়ুন:
এই জটিল আইনি বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল পরমশিবম নামক এক ব্যক্তির দায়ের করা রিট পিটিশন থেকে। ২০১৫ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম রাখেন ‘সমীর আহমেদ’।
ধর্মান্তরিত হওয়ার পর নিজেকে মুসলিম ‘লাব্বাই’ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত দাবি করে বিসিএম কোটায় সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য রাজস্ব দপ্তরে আবেদন করেন তিনি। কিন্তু প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে তিনি মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।আরও পড়ুন:
হাইকোর্ট এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনো ব্যক্তি ধর্মান্তরিত হলেই প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে তাঁকে কোনো বিশেষ নোটিফায়েড সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা যায় না। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টগুলির গঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত আইনি সিদ্ধান্ত বা নজিরকে এড়াতে রাজ্য সরকার কোনো নির্বাহী নির্দেশিকা ব্যবহার করতে পারে না। তামিলনাড়ু সরকারের এই আইনি পরাজয় ধর্মান্তর ও জাতভিত্তিক সংরক্ষণের আইনি সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।