পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাশিয়ায় নির্মাণকাজে চাকরির খোঁজে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি হল ২০ জন বাংলাদেশির। চাকরি দেওয়ার নাম করে তাঁদের জোর করে রুশ সেনায় নিয়োগ করা হয় এবং মাত্র ২১ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে নামিয়ে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় একদিনেই ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরে বিভিন্ন সময় আরও তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়।
এসআরবি-১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মহম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ৩০ জনকে রাশিয়ায় কাজের টোপ দেওয়া হয়েছিল।

জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের তিন প্রতিষ্ঠান প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা করে নিয়েছিল। রাশিয়ায় পৌঁছনোর পরেই তাঁদের ফোন ও পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন সূত্রে খবর, এই বাংলাদেশি সেনাদের মূলত প্রতিপক্ষ সেনার অবস্থান জানার জন্য টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হত। যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁদের তিনটি ভাগে মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রথম দিনই ড্রোন হামলায় ১৭ জন প্রাণ হারান।
আহত অবস্থায় দু’জন বাংলাদেশে ফিরছেন বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান এবং আবু তাহের ওরফে লেন্টুকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, মানব পাচারের এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত, যাঁদের অনেকেই বাংলাদেশি নন। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ এভাবেই রুশ সেনায় যোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশে চাকরির প্রস্তাব পেলে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।