পুবের কলম, নয়াদিল্লি: আদালতের কাজ কেবল ‘ঘেউ ঘেউ’ করে সতর্ক করা বা বাকবাকুম করা নয়, বরং সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষা করতে গিয়ে প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ বা ‘কামড়’ দিতেও পিছপা হওয়া উচিত নয় দেশের শীর্ষ আদালতের—এমনই জোরালো মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফ। কেরল হাইকোর্ট চম্বার কমপ্লেক্সে আয়োজিত একটি সাংবিধানিক কনভেনশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
 
‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ লয়ার্স’ কেরল শাখার উদ্যোগে “ভারতের নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা কি বিপন্ন?”—এই শীর্ষক কনভেনশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিচারপতি জোসেফ স্পষ্ট ভাষায় জানান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা যখন প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন বিচারব্যবস্থাকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতেই হবে। বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফ বলেন, "আমরা সাধারণ একটা প্রবাদ শুনে থাকি যে, ঘেউ ঘেউ করা কুকুর সাধারণত কামড়ায় না।

কিন্তু সংবিধানের এই প্রহরী ও ওয়াচডগ তথা সুপ্রিম কোর্টকে প্রয়োজনে কামড়ও দিতে হবে, যদি সেই ঘেউ ঘেউ বা সতর্কতা কাঙ্ক্ষিত ফল না দেয়।" নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রাক্তন সুপ্রিম বিচারপতি জানান, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা অন্য কমিশনাররা কেবল কোনো ব্যক্তি নন, তাঁরা একেকটি স্বাধীন সাংবিধানিক ‘প্রতিষ্ঠান’। আর সেই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে ওয়াচডগের ভূমিকা পালনকারী সুপ্রিম কোর্টকে কড়া পদক্ষেপ করতেই হবে।
 
বর্তমান সময়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা হ্রাসের প্রসঙ্গটিও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন প্রাক্তন বিচারপতি। তিনি জানান, দেশের সংসদ বা বিচারব্যবস্থা যখন নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তখনই প্রতিবাদী মানুষ রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হন। সমাজতান্ত্রিক নেতা ড. রাম মনোহর লোহার বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করে বিচারপতি জোসেফ বলেন, "যখন সংসদ ও আদালত ব্যর্থ হয়, তখন রাজপথই আমাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে।"