পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কাউকে ধর্মান্তরিত করার জন্য জোর বা প্রলোভন দেখানো মানেই তা কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা বোঝায় না। একটি মামলার শুনানিতে এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে বম্বের হাইকোর্ট। হিন্দুধর্ম থেকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার জন্য এক দম্পতিকে চাপ দেওয়ার অভিযোগে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর ও চার্জশিট খারিজ করে দিয়েছে আদালত। হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চের বিচারপতি এম ডব্লিউ চন্দওয়ানি এই রায় দেন।

আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, অভিযুক্তরা বড়জোর নিজেদের ধর্মের প্রচার করছিলেন, কিন্তু এর মাধ্যমে তারা কোনো শ্রেণির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানেননি।
 
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযোগকারী দম্পতিকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার বিনিময়ে মাসিক টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন এবং বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ ছিল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষে দাবি করা হয় যে তাঁদের কোনো রকম অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না এবং তারা কোনো ধর্মকে অবমাননাও করেননি।
 
গত ৬ অক্টোবর দেওয়া রায়ে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করে, অভিযুক্তরা কেবল নিজেদের ধর্মের প্রচার করছিলেন।
এর অর্থ এই নয় যে তারা এর মাধ্যমে কোনো বিশেষ শ্রেণির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছেন। আদালত উল্লেখ করে, এই কথিত ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালে, যে সময়ে মহারাষ্ট্রে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তকরণ নিষিদ্ধ করার কোনো সুনির্দিষ্ট আইন কার্যকর ছিল না। পরবর্তীতে মহারাষ্ট্র সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং অবৈধ ধর্মান্তকরণ নিষিদ্ধ করার একটি আইন প্রণয়ন করে, যা চলতি বছরের ২৮ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে।
 
অমরাবতীর বাসিন্দা যোসেফ খোদাওয়ান্ত, তাঁর ছেলে ভিক্টর খোদাওয়ান্ত, পুত্রবধূ এলভিনা খোদাওয়ান্ত এবং সমাজকর্মী অনন্ত মানকর—এই চারজনের বিরুদ্ধে চলতি বছরের জানুয়ারিতে অমরাবতীতে একটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল এবং পরবর্তীতে চার্জশিট পেশ করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে ও বিদ্বেষমূলকভাবে কোনো শ্রেণির ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানা এবং ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবমাননা করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। হাইকোর্ট সমস্ত দিক বিবেচনা করে এই চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও চার্জশিট খারিজ করে দিয়েছে।