পুবের কলম, নয়াদিল্লি: হোয়াটসঅ্যাপে একটি অজানা নম্বর থেকে মেসেজ এল—"আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। আপনি যদি এই লেনদেন না করে থাকেন, তবে এখনই 'নো' লিখে রিপ্লাই করুন।" আতঙ্কিত হয়ে ‘নো’ লিখে উত্তর দেওয়ার আগেই সাবধান! বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধীদের এই ধরনের বার্তা দিয়ে প্রতারণা করার যে খবর সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, তাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ একটি টেক্সট মেসেজের জবাবে ‘নো’ লিখলেই কারো ফোন হ্যাক হওয়া বা অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হয়ে যাওয়া প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব নয়।

তবে ভুয়ো বার্তা ও আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা যেভাবে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে, তা নিয়ে দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
 
সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সতর্কবার্তায় দাবি করা হচ্ছে, মেসেজের জবাবে 'নো' লেখার সাথে সাথে ফোনে এক ধরনের ‘অটো-এক্সেকিউশন ফাইল অ্যাটাক’ ঘটে, যা হ্যাকারদের কাছে আপনার মোবাইল ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পৌঁছে দেয়। কিন্তু সাইবার বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সাধারণ কোনো টেক্সট মেসেজে ‘নো’ বা অন্য কিছু লিখে উত্তর দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোনে ক্ষতিকারক ম্যালওয়্যার ইনস্টল হওয়া কিংবা অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া প্রায় অসম্ভব। মেসেজে যদি কোনো সন্দেহজনক লিংক দেওয়া থাকে এবং ব্যবহারকারী যদি সেই লিংকে ক্লিক করেন, কোনো ফাইল ডাউনলোড করেন বা ব্যাংক বিবরণী শেয়ার করেন—তবেই ডেটা চুরি বা আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।
 
প্রতারকরা আসলে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যাতে ব্যবহারকারী অসাবধানতাবশত কোনো ক্ষতিকর পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেন।
কোনো অচেনা নম্বর থেকে ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত সন্দেহজনক বার্তা পেলে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট নম্বরটিকে 'ব্লক' এবং 'রিপোর্ট' করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একইসাথে, কোনো সত্যতা যাচাই না করে সোশাল মিডিয়ায় এই সংক্রান্ত আতঙ্ক সৃষ্টিকারী বার্তা ফরোয়ার্ড না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। যদি কোনো কারণে অননুমোদিত আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটে, তবে অবিলম্বে নিজের ব্যাংক বা কার্ড ব্লক করতে হবে এবং ভারত সরকারের সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০-এ কল করে অভিযোগ জানাতে হবে। অথবা সরকারের অফিশিয়াল পোর্টালে গিয়ে সরাসরি অভিযোগ নথিভুক্ত করা সম্ভব। সচেতনতা ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপই সাইবার জালিয়াতি থেকে সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি।