উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: আবহাওয়া হঠাৎ করেই পরিবর্তন হয়ে আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায়। ঠিক তখনই সমুদ্রের বুকের উপর তৈরি হয় এক বিশাল জলস্তম্ভ। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল কোনো অদৃশ্য শক্তি যেন সমুদ্রের জলকে পাকিয়ে আকাশের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এমন অস্বাভাবিক ও বিরল দৃশ্য দেখে কপিলমুনির আশ্রমে থাকা ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা কার্যত হতবাক হয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার সকালে গঙ্গাসাগরের সমুদ্রে এই জলস্তম্ভ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।আরও পড়ুন:
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ গঙ্গাসাগর উপকূলের আকাশ ঘন কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরেই, সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ কপিলমুনির আশ্রম সংলগ্ন ২ নম্বর স্নানঘাটের কাছে সমুদ্রের জলের উপর বিশালাকার এক জলস্তম্ভ দেখা যায়। আবহাওয়াবিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রাকৃতিক ঘটনাকে ওয়াটার স্পাউট বলা হয়। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সমুদ্রের বুকে এই বিরল দৃশ্যটি স্থায়ী ছিল।
আরও পড়ুন:
সমুদ্রের উপর এমন ভয়াবহ জলস্তম্ভ দেখে পুণ্যার্থী, পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই প্রাণভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সরে যান। আবার অনেক কৌতূহলী মানুষ এই বিরল দৃশ্য নিজেদের মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করে রাখেন। গঙ্গাসাগরের উপকূলে সচরাচর এমন দৃশ্য দেখা যায় না বলেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রের বুকে জলস্তম্ভটি দেখা গেলেও, এটি স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসেনি।
ফলে বড় কোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে সবাই। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৈকত এলাকায় সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।আরও পড়ুন:
সমুদ্রের উপর বিশেষ ধরনের ঘূর্ণায়মান বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে জলকণা মিশে স্তম্ভের মতো আকৃতি তৈরি হলে তাকে জলস্তম্ভ বলা হয়। সাধারণত ঝোড়ো আবহাওয়া ও বায়ুমণ্ডলের বিশেষ পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে গঙ্গাসাগরে দেখা দেওয়া এই জলস্তম্ভের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে আবহাওয়াগত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিরল এই প্রাকৃতিক দৃশ্য একদিকে যেমন কৌতূহল তৈরি করেছে, অন্যদিকে সমুদ্রের বুকে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও ছড়িয়েছে।