পুবের কলম, নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভোটার তালিকার 'বিশেষ নিবিড় সংশোধন' (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে ঐক্যের মঞ্চ তৈরি করল নাগরিক সমাজ। বুধবার দিল্লির হরকিষেণ সিং সুরজিৎ ভবনে ২০০টিরও বেশি সিভিল সোসাইটি সংস্থা, গণসংগঠন এবং প্রবীণ বুদ্ধিজীবীদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই যৌথ বৈঠক থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে “পিপল এগেইনস্ট এসআইআর - অ্যান অল ইন্ডিয়া প্ল্যাটফর্ম”। দেশের সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার এবং সাংবিধানিক কাঠামো সুরক্ষায় আগামী ২৩ অক্টোবর দেশব্যাপী 'স্ট্রীট অ্যাকশন ডে' পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ২৩ অক্টোবরের দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচিতে রাজপথের মহামিছিল, গণসংসদ, কনভেনশন এবং গণভোট বা রেফারেন্ডামের আয়োজন করা হবে। দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে দিল্লির ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল 'যন্তর মন্তর'-কে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কড়া সমালোচনা করা হয়। নেতৃবৃন্দ জানান, আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তরকে আবার জনগণের অধিকারের প্রতীক হিসেবে পুনরুদ্ধার করবে।
এই উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ প্রচার অভিযান চালু করা হয়েছে—“হর গলি যন্তর মন্তর, হর গাঁও যন্তর মন্তর, মেরা ঘর যন্তর মন্তর”।

প্রতিবাদ সভায় যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ জানানোর অপরাধে ককরোচ জনতা পার্টির দুই তরুণ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে গ্রেফতার ও ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়। প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে তাঁদের অবিলম্বে মুক্তির পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অত্যাচার বন্ধের দাবি তোলা হয়। এছাড়াও, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, গোয়া, মণিপুর, গুজরাট এবং হিমাচল প্রদেশের ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মতো যেসব নির্বাচন এসআইআর-এর ভিত্তিতে হয়েছে, সেগুলি পুনঃপর্যালোচনার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের একদেশ-এক-নির্বাচন এবং ধর্ম বা জনসংখ্যার ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণের চেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করা হয়।

এই জরুরি কনভেনশনে নিখিল ভারত কিষাণ সভার সভাপতি অশোক ধাওয়ালে, খেতমজুর ইউনিয়নের বি ভেঙ্কট, রাজ্যসভার সাংসদ ভি শিবদাসন, সিআইটিইউ-র কে এন উমেশ, সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির এস পুণ্যবতী, ডিওয়াইএফআই সভাপতি তথা সাংসদ এ এ রহিম, এসএফআই সভাপতি আদর্শ এম সাজি সহ প্রকাশ রাজ, প্রশান্ত ভূষণ, পরকালা প্রভাকর, তারা রাও এবং নিখিল দের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষায় সমস্ত রাজনৈতিক দলকে জনগণের এই রাজপথের লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তাঁরা।