পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: এসআইআর বিতর্ক এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বর্তমানে উত্তাল রাজধানী। বিরোধী দলগুলি যখন কেন্দ্রের উপর লাগাতার চাপ বাড়াচ্ছে, ঠিক সেই রাজনৈতিক আবহের মাঝেই চলতি মাসে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকার পরিকল্পনা করছে সরকার। সূত্রের খবর, এই অধিবেশনে মূলত আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পাসের তোড়জোড় শুরু করেছে মোদি সরকার। সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে শাসক শিবির যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী বলেই জানা গিয়েছে।
গত ১৭ এপ্রিল বাজেট অধিবেশনে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে আনা সংবিধান সংশোধনী বিলটি পেশ করা হয়েছিল।

যার সঙ্গে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টিও যুক্ত ছিল। কিন্তু সেই সময় নিম্নকক্ষে প্রয়োজনীয় সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয় সরকার। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বেশ কিছুটা বদলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছে ডিএমকে এবং তারা ইন্ডিয়া জোট থেকেও বেরিয়ে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে অতীতে আসন পুনর্বিন্যাসের চরম বিরোধী ডিএমকের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছে বিজেপি।
শাসকদলের আশা, সংসদে ডিএমকের ২২ জন সাংসদের সমর্থন তাদের পক্ষেই যাবে। এছাড়াও কয়েকটি ছোট দলের মৌখিক সমর্থনও কেন্দ্র আদায় করতে পেরেছে বলে সূত্রের খবর।
আগামী ২৬ ও ২৭ অক্টোবর সংসদ ভবনে দ্বাদশ ব্রিকস পার্লামেন্টারি ফোরাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই বিশেষ অধিবেশনের দিনক্ষণ স্থির করা হবে। মনে করা হচ্ছে, অধিবেশন শুরুর এক সপ্তাহ আগেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে পারে কেন্দ্র। অন্যদিকে, কেন্দ্রের এই তৎপরতাকে রাজনৈতিক চমক বলে কটাক্ষ করেছে বিরোধী দলগুলি। তাদের দাবি, সরকার কোনওভাবেই প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করতে পারবে না এবং বিরোধীরা একজোট হয়ে এবারও বিল পাসের চেষ্টায় জল ঢেলে দেবে।