পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, জাতীয় পতাকা হাতে প্রতিবাদের ডাক ঘিরে শুক্রবার দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করল পুলিশ। কক্রোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির এই সিজেপি কর্মসূচি শুরুর আগে মধ্য দিল্লিতে প্রায় ৩২ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অভিযোগে সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদেই এই নতুন আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর রাতেই গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। রাতের দিকে তড়িঘড়ি সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁকে সর্বত্র অনুসরণ করছে।
তাঁর বাড়ির সামনেও বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী মোতায়েন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো বা আইবি-র গোয়েন্দারাও তাঁর উপরে নজরদারি চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন অভিজিৎ। তাঁর দাবি, নম্বরপ্লেটহীন গাড়িও তাঁকে অনুসরণ করছে। বৃহস্পতিবার রাতেই অথবা শুক্রবার সকালে তাঁকে আটক করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের নজরদারি ও পুলিশি তৎপরতা তাঁদের প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাকের পরেই শুরু হয়েছে। জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য জেলে যেতে হলেও তাঁরা প্রস্তুত বলে জানান সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে তাঁর প্রশ্ন, জাতীয় পতাকা ওড়ানো যদি অপরাধ হয়, তা হলে সেই অপরাধের জন্য কারাবাসেও আপত্তি নেই তাঁদের।আরও পড়ুন:
সিজেপির এই সিজেপি কর্মসূচি শুরুর আগে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক শুক্রবার ও শনিবার, ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি পুরসভা। প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। অন্য দিকে, কনট প্লেস ও সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। সেখানে জমায়েতের ডাক না দেওয়ার জন্য প্রতিবাদীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক করেছে দিল্লি পুলিশ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে তারা।
পুলিশের এই অবস্থানের জবাবে অভিজিৎ প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁরা যদি একশোটি জায়গায় জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ঘোষণা করেন, তা হলে কি প্রশাসন একশোটি জায়গাই বন্ধ করে দেবে?আরও পড়ুন:
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখানোর সময় জাতীয় পতাকা ওড়ানো এবং নিষিদ্ধ প্রতিবাদস্থলে প্রবেশের অভিযোগে সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের ভারতের কুখ্যাত জেল তিহাড়ে পাঠানো হয়। এই গ্রেফতারির প্রতিবাদেই নতুন কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন অভিজিৎ। সিজেপির মূল দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরাতে হবে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে দলটি।