যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের আবহে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, অগ্নিকাণ্ড ও ডুবে যাওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নৌপথে চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইরান কৌশল বদলাচ্ছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন লাগে। জাহাজটি নিজের অবস্থান শনাক্ত করার ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারা দায়ী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।

এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর সামনে আসে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ দুটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলার মতো প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছিল। সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ জাহাজটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায় এবং পরে সেটি ডুবে যায়।

জাহাজটির ২১ জন ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

অন্যদিকে, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ ডাও’ জাহাজেও প্রজেক্টাইল আঘাত হানার খবর পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় এক ক্রুর মৃত্যু হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য থেকে জানা যায়। পরে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ডুবে যায়। এসব ঘটনায় ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সবচেয়ে কঠিন সময়গুলির একটি বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন অবরোধ ও সামরিক চাপের মাধ্যমে ইরানের মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন করে তোলা হচ্ছে, যাতে দেশে অসন্তোষ ও বিক্ষোভ তৈরি হয়।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহণ করা হয়। ফলে এই নৌপথে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে জাহাজগুলিতে হামলার পেছনে কারা রয়েছে এবং ইরান সত্যিই নৌপথে নতুন কৌশল নিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।