পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: “সোশাল মিডিয়ার যুগে মোবাইল হাতে থাকা যে কেউ নিজেকে সাংবাদিক দাবি করছেন। ফলে বাক্স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের দোহাই দিয়ে সবাই যদি সাংবাদিক দাবি করেন, তবে পেশাদার ও নিবন্ধিত সাংবাদিকদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।” দিল্লি পুলিশ কর্তৃক একাধিক সাংবাদিক নিগ্রহ ও হয়রানির মামলায় শুনানি চলাকালীন এমনই তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে যে, গণমাধ্যমের ডিজিটাল যুগে প্রাতিষ্ঠানিক ও নিবন্ধিত সাংবাদিকদের সাথে সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ফারাক করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এবার থেকে সাংবাদিক চেনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট জাতীয় নির্দেশিকা তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে চলা গণবিক্ষোভ কভার করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে একাধিক নারী সাংবাদিকসহ একাধিক সংবাদকর্মী শ্লীলতাহানি ও নিগ্রহের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।

মামলাকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং সুপ্রিম কোর্টকে জানান, দায়িত্ব পালন করার সময় পুরুষ পুলিশ কর্মীরা একাধিক নারী সাংবাদিককে শারীরিক নিগ্রহ ও হেনস্থা করেছেন। এমনকি এক নারী সাংবাদিক পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সত্ত্বেও আজও পুলিশ কোনো মামলা নথিভুক্ত করেনি। বিপরীতে, ওই নারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এক পুলিশ কর্মকর্তা জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও প্রকাশ্যে অপমান করার পাল্টা মামলা দায়ের করেন।

সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টিকে "অত্যন্ত গুরুতর" বলে বর্ণনা করে নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওই নারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পুলিশ আপাতত কোনো জবরদস্তিমূলক বা কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবে না। মহিলা সাংবাদিকের দেওয়া শ্লীলতাহানির অভিযোগ খতিয়ে দেখে অবিলম্বে তদন্ত শেষ করতে হবে পুলিশকে।