পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে অন্যান্য বিরোধী দলগুলির মতোই সরব ডিএমকে। কিন্তু এই ইস্যুতে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনওভাবেই একমঞ্চে আসতে রাজি নয় তারা। সম্প্রতি এক দলীয় বৈঠকে তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই আন্দোলনে তাঁরা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে পূর্ণ সমর্থন করবেন, কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখবেন না। স্ট্যালিনের অভিযোগ, কংগ্রেস তাঁদের পিছন থেকে ছুরি মেরেছে। তাই প্রয়োজনে আঞ্চলিক দলগুলিকে একজোট করে এবং ককরোচ জনতা পার্টিকে সামনে রেখে তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ার ভাবনা রয়েছে ডিএমকে-র।
আরও পড়ুন:
জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস ও ডিএমকে-র এই দূরত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শোনা যাচ্ছে, চলতি মাসের শেষেই সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে চলেছে কেন্দ্র। সেখানে ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশ করা হতে পারে। লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করার এই বিলটি গত ১৭ এপ্রিল সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে পাশ করানো যায়নি। তবে এবার বিল দু'টি পাশ করানোর বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী শাসক শিবির।
সরকারের এই আত্মবিশ্বাসের নেপথ্যে ডিএমকে-র সমর্থন থাকতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। সংসদে এই বিল পাশ করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় ৫৪০ জন সাংসদের মধ্যে তৃণমূল ও শিব সেনায় ভাঙনের জেরে এনডিএ-র পক্ষে ৩১৯ জন রয়েছেন।
স্ট্যালিনের দলের ২২ জন সাংসদ এবং শরদ পাওয়ারের দল সমর্থন করলে এনডিএ অনায়াসে ৩৪৯-এ পৌঁছে যাবে (ম্যাজিক ফিগার ৩৬০)। অন্যদিকে, রাজ্যসভাতেও আপ ও তৃণমূলের ভাঙনের ফলে এনডিএ ১৫৫-তে পৌঁছেছে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৬৩টি ভোট। সূত্রের দাবি, সংসদে বিল পাশের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে ইতিমধ্যেই ডিএমকে এবং বেশ কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে সরকার পক্ষ।