পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ কমাতে এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দফায় দফায় তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিলেও পরিস্থিতি উল্টো রূপ নিয়েছে। সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাব্য লক্ষণও দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
ইরাকের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি, ইরানের সীমান্তের কাছে ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানের টহল, ইজরায়েলে বোম্ব শেল্টার খুলে দেওয়া এবং আকাশপথ খালি করার মতো একের পর এক সামরিক প্রস্তুতি বড়সড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আমেরিকা সম্প্রতি তাদের তৈরি অন্যতম সর্ববৃহৎ প্রচলিত অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অফ অল বম্বস’ বা এমওএবি ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিলে পালটা তেহরানের পক্ষ থেকেও কড়া জবাব এসেছে। ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশ নীতি কমিশনের সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজেরদি জানিয়েছেন, মার্কিন বোমার জবাবে ইরান তাদের ‘ফাদার অফ মিসাইলস’ নামাতে প্রস্তুত।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মজিদ ইবন আল-রেজা সরাসরি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বার্তা দিয়েছেন যে, বোমার নাম বা আকারে কিছু যায় আসে না। তাঁর দাবি, এই ধরনের বোমার আঘাত সরাসরি আমেরিকার অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং খোদ ট্রাম্পের নির্বাচনী সমীকরণের উপর গিয়ে পড়বে।
পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি যুদ্ধের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।আরও পড়ুন:
কূটনৈতিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, কুহ-এ কলং এলাকায় সম্ভাব্য হামলার পর ইরান যাতে কোনও পালটা আঘাত না হানে এবং সংঘাতের ইতি ঘটে, সেই বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানকে বার্তা পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যে কোনও ধরনের আগ্রাসনের যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। ফলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ওয়াশিংটন কতটা সফল হবে এবং যুদ্ধ বাধলে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে তুলবে কি না, সেই আশঙ্কাই এখন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।