পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হাউথি বিদ্রোহীরা গত ১ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবের রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ২০ বার হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার ইয়েমেনে বৈধতা সমর্থনকারী জোটের যৌথ বাহিনীর এক সাংবাদিক বৈঠকে জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সহ সৌদির বিভিন্ন বিমানবন্দরে হওয়া এই ধারাবাহিক হামলায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৩৬৪ জন মানুষ আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন:
আল-মালিকি এই হামলার তীব্র নিন্দা করে জানান, সাধারণ মানুষ এবং অসামরিক পরিকাঠামোকে নিশানা করে হাউথিরা চরম কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছে।
এর পালটা জবাব দিতে পিছপা হয়নি যৌথ বাহিনীও। সামরিক অভিযানের অঙ্গ হিসেবে ইয়েমেনের সানা, সাদা এবং আমরান-সহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় হাউথিদের ১২৭টি অস্ত্রভাণ্ডার এবং একাধিক লঞ্চপ্যাড পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, আঞ্চলিক বিভিন্ন শক্তির সাহায্যে হাউথিরা বর্তমানে অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল, সুইসাইড ড্রোন এবং বিস্ফোরক বোঝাই নৌকার মতো সামরিক প্রযুক্তি হস্তগত করেছে। নিজেদের যুদ্ধাস্ত্র মজুত করতে এবং সামরিক অভিযানকে আড়াল করতে তারা ইয়েমেনের সাধারণ পরিকাঠামো ও শিল্পকেন্দ্রগুলিকে ব্যবহার করছে।আরও পড়ুন:
সাংবাদিক বৈঠকে পেশ করা নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর জাজানের কিং আবদুল্লা বিন আবদুলআজিজ বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন আহত হন। ৬ অক্টোবর আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দু'জনের মৃত্যু হয় ও ২৮ জন আহত হন। এরপর রিয়াধের কিং খালিদ বিমানবন্দরে ৭ ও ৮ অক্টোবরের হামলায় যথাক্রমে এক ও তিনজনের মৃত্যু হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি ঘটে ১০ অক্টোবর।
ওই দিনের হামলায় ১৩ জন প্রাণ হারান এবং ৩০৯ জন মানুষ আহত হন। এর ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ১১ অক্টোবরের হামলায় আরও একজনের মৃত্যু ও ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।আরও পড়ুন:
বিপুল পরিসংখ্যান তুলে ধরে জোটের মুখপাত্র জানান, ২০১৬ সালের মার্চ মাস থেকে এখনও পর্যন্ত সৌদির দিকে এক হাজারেরও বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ড্রোন ছুড়েছে হাউথিরা। ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে চলতি বছরের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত তারা হাজার হাজার রকেট ও প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করেছে। সাংবাদিক বৈঠকের শেষে আল-মালিকি স্পষ্ট ভাষায় হাউথিদের সতর্ক করে জানান, সৌদি আরবে সাধারণ মানুষের উপর এই বর্বরোচিত হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি হাউথিদের 'স্টকহোম চুক্তি'র শর্তগুলি খুব ভালোভাবে পড়ার ও তা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। দেশের সার্বভৌমত্ব, পবিত্র স্থান ও নাগরিকদের রক্ষায় সৌদি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের অত্যাধুনিক বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও তিনি সকলকে আশ্বস্ত করেছেন।