পুবের কলম, নিউ ইয়র্ক: বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক সাফল্যের অনন্য নজির গড়ে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ২০২৭-২০২৯ মেয়াদের জন্য পুনরায় সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলো কুয়েত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রসংঘে কুয়েতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত তারেক আল-বানাই কুয়েতি সংবাদ সংস্থা ‘কুনা’কে জানান, কুয়েত সদস্য দেশগুলির কাছ থেকে ১৭৩টি ভোট পেয়েছে, যা বিজয়ী দেশগুলির মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট সংখ্যা। তিনি জানান, এই নিরঙ্কুশ জয় কুয়েতের মধ্যপন্থী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতি এবং রাষ্ট্রসংঘের সনদের ওপর বিশ্ব সম্প্রদায়ের গভীর ও পুনর্নবীকৃত আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।
এই অসামান্য সাফল্যের জন্য রাষ্ট্রদূত তারেক আল-বানাই কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সবাহ, যুবরাজ শেখ সবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সবাহ, সরকার এবং কুয়েতের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঠিক দূরদর্শিতা ও সমর্থনের ফলেই এই বিশ্বজনীন স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আল-বানাই জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র সংঘাত, মানবিক সংকট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন এক জটিল সময়ে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষা করা একটি বড় দায়িত্বের বিষয়। আগামী মেয়াদে মানবাধিকার পরিষদে কুয়েতের প্রধান অগ্রাধিকার হবে, কুয়েত ফিলিস্তিন নীতিতে অবিচল থাকবে এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারসহ তাঁদের সমস্ত বৈধ অধিকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক স্তরে জোরালো আওয়াজ তুলবে। নারী, শিশু এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সুরক্ষায় অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। সশস্ত্র সংঘাতের সময় সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় বাধাহীনভাবে মানবিক ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে।