পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:  ভোটের ঠিক মুখেই বড়সড় বিপাকে পড়লেন আমেরিকার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার কয়েকদিন আগে ফেডারেল এজেন্টরা মিনেসোটার এই প্রভাবশালী নেত্রীর বাড়িতে কাকভোরে তল্লাশি চালায়। মূলত তাঁর অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্রে অনিয়মের অভিযোগে এই তল্লাশি। তারপরেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

সোমালি বংশোদ্ভূত এই বামপন্থী আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ এনে তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়ন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এই তল্লাশিকে সরাসরি রাজনৈতিক হেনস্থা বলে আখ্যা দিয়েছেন ওমর।

তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সূত্রের দাবি, নয়ের দশকে সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে আমেরিকায় আসার সময় কিংবা পরবর্তীতে ২০০০ সালে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ওমর বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা কোনও ভুয়ো তথ্য দিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান। আদালতের সিলমোহর দেওয়া পরোয়ানায় ষড়যন্ত্র, অভিবাসন সংক্রান্ত নথিতে ভুল তথ্য প্রদান এবং অভিবাসন জালিয়াতির মতো অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। তল্লাশি চলাকালীন তদন্তকারীরা ওমরের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছেন।

পাশাপাশি ফেডারেল আইনজীবীরা এক ডজনেরও বেশি সমন জারি করেছেন, যার মধ্যে ওমরের পরিবারের অন্তত একজন সদস্যও রয়েছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত ভোটের ৬০ দিনের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকে বিচার বিভাগ। কিন্তু নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে, যখন ওমর নিজের আসনটি ধরে রাখতে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে নেমেছেন, তখন একজন বর্তমান কংগ্রেস সদস্যের বাড়িতে এই ধরনের অভিযানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ জোরাল হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ দিন ধরেই ওমরের মুসলিম পরিচয় এবং সোমালি ঐতিহ্যকে নিশানা করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত জানুয়ারি মাসে একটি সাক্ষাৎকারে ওমরকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা উচিত কি না জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে সম্মতি জানিয়েছিলেন।

এছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান মার্কওয়েন মুলিনও সম্প্রতি ওমরের পরিবার অবৈধ উপায়ে আমেরিকায় ঢুকেছিল বলে অভিযোগ তুলে তাঁকে দেশান্তরি করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
১৯৯৫ সালে সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধ ও কেনিয়ার শরণার্থী শিবির থেকে পালিয়ে মাত্র ১২ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় এসেছিলেন ইলহান ওমর।

এরপর ২০০০ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং ২০১৯ সাল থেকে তিনি মিনেসোটার কংগ্রেস সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মার্কিন আইন অনুযায়ী, নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন বা জালিয়াতি করলে আদালত তা বাতিল করতে পারে। সাধারণ সময়ে এমন পদক্ষেপ অত্যন্ত বিরল হলেও, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বিচার বিভাগ ইতিমধ্যেই অন্তত ১৬৪টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়ের করেছে। এদিকে তল্লাশি সংক্রান্ত যাবতীয় সরকারি নথি প্রকাশ্যে আনার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে রয়টার্স-সহ ১৪টি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম।