বিজেপির পার্টি অফিসে আগুন, হিংসার বলি ৪

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক : লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতাভুক্ত করে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হোক। এই দাবি জানিয়ে বুধবার লাদাখের লেহতে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত প্রায় ৭০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্ফু জারি করা হয়েছে।

লাদাখের রাজধানী লেহতে বুধবার বিকেলে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং অন্যান্য নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের বিক্ষোভ মিছিল হঠাৎ হিংস্র হয়ে উঠে বিজেপির অফিস ভাঙচুর করল। উত্তেজিত জনতা বিজেপির অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়।
পৃথক লাদাখ রাজ্য এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের মর্যাদা চেয়ে দীর্ঘ কাল ধরে লেহতে সোনমের নেতৃত্বে বিভিন্ন সমাজকর্মীরা আন্দোলন করছেন।

সম্প্রতি ১৫ দিনের জন্য অনশন কর্মসূচি নেওয়া হয়। সেই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন ৩৫ জন। তার মধ্যে ২ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। মঙ্গলবার তাঁদের অবস্থা খারাপ শুনে এই কর্মসূচিতে আরও মানুষ যোগ দেন। এদিন অনশনকারীদের সমর্থনে শান্তিপূর্ণ মিছিল বের হয়। কিন্তু বিজেপি অফিসের কাছে মিছিল আসতেই হঠাৎ তা হিংস্র হয়ে ওঠে।

পুলিশ এবং সি আর পি এফ জওয়ানরা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং লাঠি চালায় মিছিলকারীদের উদ্দেশ্যে। তখন বিক্ষোভকারীরা সি আর পি এফ এর একটি গাড়িতেও ভাঙচুর করে।

সোনম ওয়াংচুকের ছাত্র ও যুব সমর্থকেরা এই মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। কেউ হতাহত হননি। যেহেতু কেন্দ্রে বিজেপির সরকার রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৯ সাল থেকে লাদাখকে জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে, যা লাদাখের মানুষ মানতে নারাজ, সেই কারণেই বিজেপির অফিসে হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এই ঘটনার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি অফিসের ছাদ দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে, অন্যদিকে ছাত্রযুবরা কেন্দ্রবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে।

জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে লাদাখকে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার পর ওখানকার লোকজন প্রথমে ভেবেছিলেন যে, এতে হয়তো তাঁদের উপকার হবে। কিন্তু এখন দেখছেন কিছুই হয়নি। বরং তাঁদের আশঙ্কা, উপজাতি অধ্যুষিত এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য লুপ্ত হয়ে যাবে, যা ওঁরা একদম চান না।

সেই কারণেই সোনমের নেতৃত্বে অনেকদিন ধরে লাদাখবাসী লড়াই করছেন পূর্ণ রাজ্য চেয়ে এবং লাদাখের জন্য সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের মর্যাদা চেয়ে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বেশ কিছুকাল ধরেই বলছিলেন, আলোচনায় কিছু না হলে পরিস্থিতি আমাদের হাতের বাইরে চলে যাবে। এদিন সেটাই হল। সোনমও আক্ষেপ করে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের গতি হারিয়ে গেল। আমি আজ ব্যর্থ।