পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আর্জি খারিজ হওয়ার পর এ বার দুর্গাপুজোর পাস বিলি দুর্নীতি মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। আগামী সপ্তাহে শীর্ষ আদালত বন্ধ থাকায়, তা খুললেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উৎসবের মরশুমে যাতে তিনি গ্রেফতার না হন, সেই আশঙ্কা থেকেই প্রাক্তন মন্ত্রী এই পদক্ষেপ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস অত্যন্ত চড়া দামে বিক্রি করতেন প্রাক্তন মন্ত্রী।
হাই কোর্টে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, ৫৩.৪৬ কোটি টাকার একটি টেন্ডার জিআইডিআই ক্রিয়েশনকে দেওয়া হয়েছিল এবং সেখান থেকে ৫০.৩১ কোটি টাকা থার্ড লাইন ক্রিয়েশনের অ্যাকাউন্টে যায়। এই প্রক্রিয়ায় মাস আর্ট-সহ একাধিক সংস্থার মাধ্যমে অর্থ ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মাস আর্ট সোসাইটির পদাধিকারী ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রী। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, জিআইডিআই ক্রিয়েশন এবং থার্ড লাইন ক্রিয়েশনের সঙ্গে ইন্দ্রনীলের যোগসূত্রের প্রাথমিক উপাদান তদন্তে মিলেছে। মন্ত্রী থাকাকালীন পদের অপব্যবহার করে সরকারি অর্থ অন্যত্র সরিয়ে পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষ বলে হাই কোর্ট জানিয়েছে।
এই গোটা দুর্নীতির তদন্তে পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডিও যুক্ত হয়েছে। ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে পুজো কার্নিভালের পাস বিক্রি, কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব ও বইমেলায় আর্থিক তছরুপ এবং নিজের ঘনিষ্ঠ সংস্থাকে বেআইনিভাবে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। ইডির প্রাথমিক অনুমান, এই পুরো দুর্নীতির পরিমাণ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই প্রাক্তন মন্ত্রীকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করে দু'বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি এবং তাঁর কসবার বাড়ি ও সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশিও চালিয়েছে।