পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: চোরবাগান পুজো মণ্ডপের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে শহরের বড় পুজোগুলির নিরাপত্তায় কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য প্রশাসন। এবার থেকে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে আর কোনও বিশেষ বা ভিআইপি লাইন থাকছে না। সকলকেই একটিমাত্র লাইনে দাঁড়িয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করতে হবে। রবিবার ভবানী ভবনে প্রশাসনিক শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর এই নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২৬ অক্টোবর রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানটি এবার উৎসবের বদলে একেবারেই আড়ম্বরহীন ভাবে পালন করা হবে।


এদিন ভবানী ভবনে মুখ্যমন্ত্রীর পৌরোহিত্যে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত-সহ একাধিক পদস্থ আধিকারিক। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুজো মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার জন্য শনিবার রাতেই যে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছিল, তাঁরা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সচিব, দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের এডিজি জাভেদ শামিমের নেতৃত্বাধীন এই দল বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ভিড় এড়াতে প্রয়োজনে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পাশাপাশি, ঠিক কী কারণে চোরবাগানে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে একটি ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’ গঠন করা হয়েছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান।

শনিবারের দুর্ঘটনার রেশ ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২৬ অক্টোবরের বিজয়া সম্মিলনীতে সমস্ত পুজো কমিটিকে ডাকা হচ্ছে। তবে সেখানে কোনও উৎসবের মেজাজ থাকবে না। বরং চোরবাগানের বিপর্যয়ে নিহত ১৯ জনের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হবে এবং আহতদের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হবে। উৎসবের এই দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, অন্তরে সহানুভূতি রেখে শাস্ত্র ও পঞ্জিকা মেনে পুজো দর্শন করুন। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে আগামী কয়েকদিন তিনি শোকার্ত পরিবারগুলির পাশেই থাকবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।