পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে ঘটে গেল এক ভয়াবহ বিপর্যয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধে ৭টা ৪০ মিনিট। আচমকা মাইকে একটি ঘোষণার পরেই দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। মণ্ডপ থেকে বের হতে গিয়ে অনেকে মাটিতে পড়ে যান এবং পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পাশাপাশি অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।খবর পাওয়া মাত্রই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান এবং সেখানে মৃতদের পরিবার ও চিকিৎসাধীন আহতদের সঙ্গে দেখা করেন। রাতেই তিনি চোরবাগানের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। শহরের বাকি বড় পুজো মণ্ডপগুলির ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রী একটি বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সচিব রাজেশ সিনহা, দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের এডিজি জাভেদ শামিমের নেতৃত্বে এই বিশেষ দল কাজ করবে। ডিজি-র নির্দেশনায় ও কলকাতা পুলিশের সহায়তায় এই দল শহরের জনপ্রিয় পুজোগুলি পরিদর্শন করবে এবং স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষের কাছে তাদের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পুজোর এখনও অষ্টমী, নবমী ও দশমী বাকি রয়েছে। এই দিনগুলিতে মণ্ডপগুলিতে আরও বেশি ভিড় উপচে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই শহরের সমস্ত পুজো কমিটিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, চোরবাগানের মতো মর্মান্তিক ঘটনার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে। পুজো কমিটিগুলিকে পুলিশের সমস্ত নির্দেশিকা ও সুপারিশ কড়াভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিড়ের চাপ এড়াতে প্রয়োজনে মণ্ডপের ভিতরে শুধুমাত্র পুরোহিত দিয়ে পুজো সম্পন্ন করে বাইরের দর্শকদের জন্য এলইডি স্ক্রিন লাগানোরও পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।