পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সিইসির পদত্যাগ ও এসআইআর ইস্যুতে কমিশনের ওপর আক্রমণ শাণিত করল প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। রবিবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতেই হবে এবং বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা যোগাযোগ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান জয়রাম রমেশ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে দাবি করেছেন, দেশজুড়ে ‘ভোট চোর’-দের বিরুদ্ধে চলা গণবিক্ষোভের ফলেই নির্বাচন কমিশন বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জয়রাম রমেশ বলেন, বিগত দু’বছর ধরে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস পার্টি অত্যন্ত ধারাবাহিক ও জোরালোভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে সার্চযোগ্য ফরম্যাটে ভোটার তালিকা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, "২০১৮ সালে মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস লক্ষ লক্ষ ভুয়া ভোটার খুঁজে পাওয়ার পর থেকেই ইসিআই সার্চযোগ্য ভোটার তালিকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। ‘ভোট চুরি’ পাকা করতেই গত ৮ বছর ধরে এই দাবি নাকচ করা হয়েছিল। কিন্তু এবার দেশবাসী রাস্তায় নেমে আসায় সেই নীতি বদলাতে বাধ্য হয়েছে।"

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে যে, আগামী বছরের শুরুতে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে এমন ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বার্ষিক বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন চলাকালীন রাজনৈতিক দলগুলিকে সার্চযোগ্য ফরম্যাটে ভোটার তালিকা প্রদান করা হবে।

এই রাজ্যগুলিতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী বছরের ৪ জানুয়ারি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই নির্বাচন কমিশন কাজ করছে এবং এর মাধ্যমে ইসিআই-এর ওপর জনগণের আস্থা সম্পূর্ণ ধুলোয় মিশে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন জয়রাম রমেশ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "জ্ঞানেশ কুমারকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। তাঁকে পদত্যাগ করতেই হবে। তবে শুধু সিইসি-র চলে যাওয়াই যথেষ্ট নয়, নির্বাচন কমিশনের পুরো আইটি সিস্টেম এবং কাঠামোকে সম্পূর্ণ নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে।"