ওবাইদুল্লা লস্কর, বিষ্ণুপুর: পুজোর উৎসবের আমেজ মুহূর্তের মধ্যে বিষাদে পরিণত হলো এক মর্মান্তিক ঘটনায়। চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের এগারো গ্রামের বাসিন্দা স্নেহা ভাণ্ডারীর। আনুমানিক ২০ বছর বয়সী এই তরুণী বিদ্যানগর কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। শনিবারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পদপিষ্ট মৃত্যু ঘিরে তাঁর পরিবার ও গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে স্নেহা বাড়ি থেকে পুজো দেখার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন।

স্নেহার ছোট বোন স্থানীয় বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। চোরবাগান এলাকায় ঠাকুর দেখার সময় প্রচণ্ড ভিড়ের কবলে পড়ে যান স্নেহা। ভিড়ের চাপে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি নিচে পড়ে যান এবং পদপিষ্ট হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে চিকিৎসারত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই পদপিষ্ট মৃত্যু ঘটল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।

স্নেহার বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়া বিধানসভার অন্তর্গত বিষ্ণুপুর থানার পঞ্চানন গ্রাম পঞ্চায়েতের এগারো গ্রামে। তাঁর বাবা পেশায় একজন টোটোচালক। পুজোর আনন্দে ছোট বোনকে নিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন যে তরুণী, তাঁর এমন মর্মান্তিক পরিণতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। স্নেহার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। উৎসবের মরসুমে এমন একটি পদপিষ্ট মৃত্যু পুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে বিপুল জনসমাগম সামলাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, সুশৃঙ্খল প্রবেশ ও বেরোনোর পথ এবং কার্যকর ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা জরুরি, স্নেহার অকাল প্রয়াণ সেই প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে এনে দাঁড় করাল। আনন্দের উৎসবে এভাবে একটি তরুণ প্রাণ ঝরে যাওয়ায় এলাকার বাসিন্দারাও গভীরভাবে শোকাহত।