হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া ইরানের প্রস্তাব এখনও বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটন তেহরানের শর্ত মেনে নিলে ছয় দিনের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খুলে দেওয়া সম্ভব। এরপরের দিন থেকেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।

রবিবার ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাবটি গ্রহণের আহ্বান জানান আরাগচি। বর্তমানে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) বৈঠকে যোগ দিতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে রয়েছেন তিনি।

আরাগচি জানান, হরমুজ প্রণালি চালু করার বিষয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যা পর্যালোচনা করছে তেহরান। তবে এখনও প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়নি। ওয়াশিংটন আন্তরিকভাবে উদ্যোগী হলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের দেওয়া শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে দেশটির বন্দরগুলির ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আঞ্চলিক সংঘাতগুলিতে বৈরিতা বন্ধ করা।

তবে এই শর্তগুলি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সীমিত করার দাবি জানিয়ে আসছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও জানিয়েছিলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে।

অন্যদিকে, ইরানের দাবি, আলোচনার ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং সেখানে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে প্রণালিটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এখন নজর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ইরানের শর্ত মেনে ওয়াশিংটন আলোচনায় বসবে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা।